অনলাইনে বিশ্বকাপ ব্রিজের প্রস্তুতি সারছে বাংলাদেশ দল – BD Sports 24
  • অনলাইনে বিশ্বকাপ ব্রিজের প্রস্তুতি সারছে বাংলাদেশ দল

    August 21st, 2019

    বিশেষ সংবাদদাতা

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ২১ আগস্ট: ব্রিজের জন্য নিজস্ব প্লেয়িং ভেন্যু না থাকায় বিশ্বকাপ ব্রিজকে সামনে রেখে কখনো অনলাইনে কখনো বা কারো বাসায় এভাবেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের প্রস্তুতি। শুধু বিশ্বকাপগামী দলই নয়, যুব বিশ্বকাপ ব্রিজ দলকেও একই কায়দায় অনুশীলনপর্ব চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

     

    আগামী ১৪-২৮ সেপ্টেম্বর চীনের উহামে ৪৪তম ওয়ার্ল্ড ব্রিজ টিম চ্যাম্পিয়নশিপ বা বিশ্বকাপ ব্রিজের মূলপর্ব শুরু হচ্ছে। এর আগে ক্রোয়েশিয়ায় ২০-২৮ আগস্ট শুরু হচ্ছে ওয়ার্ল্ড জুনিয়র ব্রিজ টিম চ্যাম্পিয়নশিপ বা যুব বিশ্বকাপ ব্রিজের আসর। এই দু’টি প্রেস্টিজিয়াস ইভেন্টে শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী লাল-সবুজ পতাকাধারী খেলোয়াড়দের ভালো করার সম্ভাবনা থাকলেও সীমিত সুযোগ-সুবিধা, স্পন্সরের অভাব আর ব্রিজের নিজস্ব ভেন্যু না থাকায় তাদের অনুশীলন, প্রশিক্ষণ আর মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটছে। তবুও এমন সীমাবদ্ধতার পর আন্তর্জাতিক আঙিনায় তারা বেশ দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন। সূত্র :ক্রীড়াজগত

     

    বাংলাদেশ জাতীয় দল ২০১৭ সালে জোনাল ব্রিজ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হবার সুবাদে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ব্রিজের মূলপর্বে খেলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফ্রান্সের লিঁওতে ৪৩তম ব্রিজ বিশ্বকাপে ১১ বারের বিশ্বকাপজয়ী ইতালি, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাঁচ দেশকে হারিয়ে রীতিমতো হৈ চৈ ফেলে দেয়। বাংলাদেশ আগের চেয়ে এখন আরো পরিণত দল। গেল দুই বছরে নানা ধরনের টুর্নামেন্টে বিশ্বসেরাদের সাথে লড়ে অভিজ্ঞতা বেড়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে চীনের উহামে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখানোর চেষ্টাই করবে লাল-সবুজের দেশ। এদিকে যুব বিশ্বকাপ ব্রিজেও অনেক ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৬ সালে ইতালিতে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলকে হারিয়ে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

     

    বাংলাদেশ ব্রিজ ফেডারেশনের সভাপতি মুশফিকুর রহমান মোহন বলেন, বিশ্বকাপ ব্রিজকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। নিজস্ব প্লেয়িং ভেন্যু না থাকায় খেলোয়াড়রা কখনো অনলাইনে আবার কখনো কারো বাসায় একত্রিত হয়ে অনুশীলন করছেন।

     

    তিনি জানান, বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো দেড় মাস বাকি। যদি অন্তত এক মাস আবাসিক ক্যাম্প করা যেতো তাহলে খুবই ভালো হতো। সমস্যা হচ্ছে দলের সবাই চাকুরিজীবি। চারজন ব্যাংকার একজন উপসচিব। কাজেই তাদের জন্য ছুটি পাওয়া খুবই কঠিন। তবুও দেশের স্বার্থে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছুটি মঞ্জুর করতেন তাহলে প্রস্তুতিপর্ব আরো জোরালো হতো। নিরবছিন্নভাবে তারা অনুশীলন করতে পারতেন। মনোসংযোগে পূর্ণ সময় দিতে পারতেন। তাতে ফলাফল আরো ভালো হতো। একটি উদাহরণ টেনে ব্রিজ ফেডারেশনের সভাপতি মোহন জানান, ভারতে দেড়শর মতো প্রফেশনাল ব্রিজ খেলোয়াড় রয়েছেন। তাদের কাজই হচ্ছে দেশ-বিদেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলে যাওয়া। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের দেখভাল আর আর্থিক নিশ্চয়তা দেখা। কিন্ত আমরা এ খেলাটিকে এখনো শৌখিনতার বেড়াজালে আবদ্ধ রেখেছি।

     

    স্পন্সর নেই, খেলার ভেন্যু নেই, সুযোগ-সুবিধা নেই। তারপরও খেলোয়াড়রা তাদের কাজকর্ম সেরে ব্রিজে সময় দিয়ে বহির্বিশ্বে ভালই সাফল্য দেখাচ্ছেন। এটিকে তিনি বিশাল অর্জন হিসেবেই দেখছেন।

     

    এক প্রশ্নের জবাবে মুশফিকুর রহমান মোহন বলেন, আমাদের ‘ছয় হাজার স্কয়ার ফিটের’ একটা জায়গা দরকার। তাতে আমরা একটি নিজস্ব খেলার ভেন্যু গড়ে তুলতে পারবো। সেখানে খেলোয়াড়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুশীলন করতে পারবেন। নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি করতে পারবো। তিনি জানান, আমাকে একটি খেলার ভেন্যু দিন, আমি এশিয়ান গেমস থেকে নুন্যতম পদক দেশকে উপহার দেবো।

     

    উল্লেখ্য, গেল বছর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ব্রিজ দল বেশ সারা জাগানিয়া নৈপুণ্য দেখিয়ে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করে। বহির্বিশ্বের মতো এদেশে ব্রিজ খেলা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নে তিনি জানালেন এই খেলাটি নিয়ে দেশের অনেকেরই ভুল বা বাজে ধারণা রয়েছে। সেটি হচ্ছে, ‘তাসে নাশ, তাসে সর্বনাশ!’ অথচ তারা জানেন না, ব্রিজ খেলা মানেই জুয়া খেলা নয়! এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তির খেলা। তবে আশার কথা, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাস খেলা নিয়ে সবার মধ্যে ভুল ও নেতিবাচক ধারণা পাল্টাতে শুরু করেছে।

     

    বিশ্বকাপ ব্রিজে এ বছর বিশ্বের সেরা ২৪টি দল অংশ নিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবার দ্বিতীয়বারের মতো খেলতে যাবে। গত ২৩-৩০ জুন জর্ডানের আম্মানে জোনাল ব্রিজ চ্যাম্পিয়নশিপে লাল-সবুজ পতাকাধারীরা শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ব্রিজের মূলপর্বে জায়গা করে নেয়। জোনাল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ শক্তিশালী পাকিস্তানকে এবং ফাইনালে ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে দিয়ে মূলপর্বে প্রত্যাশার ব্যারোমিটার আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কাজেই বিশ্বকাপ ব্রিজ ও যুব বিশ্বকাপ ব্রিজে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

     

    তবে গত অর্ধ দশক ধরে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ঘরোয়া ব্রিজের অনেক উন্নতি হয়েছে। বেশ কিছু সাফল্যও এসেছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে খেলোয়াড়দের কঠোর অনুশীলন আর কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার কারণেই। আগামীতে বড় ধরনের সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা। বর্তমানে যেভাবে দেশীয় ব্রিজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে চলেছে তাতে আশাবাদী হতেই পারেন দেশবাসী।

     

    বিশ্বকাপ ব্রিজে বাংলাদেশ স্কোয়াড: খেলোয়াড়-শাহ জিয়াউল হক জিয়া, মশিউর রহমান সুমন, রাশেদুল হাসান নাঈম, এএইচএম কামরুজ্জামান সোহাগ ও মো. মনিরুল ইসলাম। কোচ কাম সেফ দ্য মিশন: মুশফিকুর রহমান মোহন।

     

    যুব বিশ্বকাপ ব্রিজে বাংলাদেশ স্কোয়াড: খেলোয়াড়- মোস্তাফিজুর রহমান হাবিব (অধিনায়ক), শহিদুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, প্রান্ত সরকার, মো. মেহেদি হাসান ও তরিকুল ইসলাম। ম্যানেজার: মো. সাইহান ওলিউল্লাহ। চিফ ডেলিগেট: মুশফিকুর রহমান মোহন।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/এমএ


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

    No posts here...

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

    No posts here...