এসএ গেমস প্রস্তুতি: ভারোত্তোলনে স্বর্ণপদক আসতে পারে তবে… – BD Sports 24
  • এসএ গেমস প্রস্তুতি: ভারোত্তোলনে স্বর্ণপদক আসতে পারে তবে…

    August 20th, 2019

    বিশেষ প্রতিনিধি

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ২০ আগস্ট: এসএ গেমসে টানা দুইবার স্বর্ণপদক জয়ের পর দেশকে এবার তৃতীয়বারের মতো স্বর্ণপদক উপহার দিতে চাইছেন দেশসেরা ভারোত্তোলকরা। সেই স্বপ্ন জয়ের মিশনকে সামনে রেখেই জুলাই থেকে তাদের কঠোর অনুশীলন শুরু হয়েছে। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তারা কতটুকু কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছুতে পারবেন তা সময়ই বলে দেবে। এ মুর্হূতে আপাত দৃষ্টিতে তাদের পারফরম্যান্সে স্বর্ণ জয়ের মতো ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। তবে চেষ্টা করলে হয়তো বা প্রত্যাশিত পদকটি চলে আসতেও পারে।

     

    কাজেই স্বর্ণ জয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে হলে প্রথমত প্র্যাকটিস ভেন্যু দ্রুত সংস্কার করার পাশাপাশি সেন্ট্রাল এসি ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত বর্তমানে ইকুয়েপমেন্টসের অপ্রতুলতার পাশাপাশি সেগুলো বেশ পুরনো ও অনেকটাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কাজেই প্রয়োজনীয় ইকুয়েপমেন্টসগুলোর দ্রুত ব্যবস্থাকরণে উদ্যোগ নেয়া দরকার। তৃতীয়ত হাইপারফরম্যান্স বিদেশী কোচ। ভারোত্তোলকদের এই তিনটি চাহিদা পূরণে বাস্তবমুখি পদক্ষেপই হতে পারে স্বর্ণজয়ের অন্যতম স্তম্ভ।

     

    দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক গেমসখ্যাত এসএ গেমসে ২০১০ সালে ঢাকায় মো. হামিদুল ইসলাম ৭৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে ভারোত্তোলন ডিসিপ্লিন থেকে দেশকে প্রথম স্বর্ণপদক উপহার দেন। এরপর নারী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ভারতের গোয়াহাটিতে ২০১৬ সালে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন। টানা দু’টি আসর থেকে কাঙ্ক্ষিত পদক জয়ের পর এবার তৃতীয়বারের মতো দেশবাসী এই সম্ভাবনাময় ডিসিপ্লিন থেকে স্বর্ণ জয়ের আশা করতেই পারেন।

     

    নেপালের কাঠমান্ডুতে আগামী ১-১০ ডিসেম্বর এসএ গেমসের ১৩তম আসর অনুষ্ঠিত হবে। গেমসের ২৭টি ডিসিপ্লিনের অন্যতম একটি ভারোত্তোলন। তাই দেশসেরা ভারোত্তোলকরা স্থানীয় কোচদের প্রশিক্ষণে নিজেদের তৈরি করে নিচ্ছেন। পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগের প্রতিটি ইভেন্টেই বাংলাদেশ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষে লড়াই করবে। তাতে খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার ও লোডারসহ চূড়ান্ত দল ২৩ থেকে ২৪ সদস্যের হতে পারে। তবে আবাসিক ক্যাম্পে বর্তমানে ২৯ জন রয়েছেন।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরনো বিল্ডিংয়ে খেলোয়াড়দের আবাসিক ক্যাম্প করা হয়েছে। অনুশীলনের স্বার্থে ভারোত্তোলনের নিজস্ব জিমের পাশাপাশি বডিবিল্ডিংয়ের জিম নেয়া হয়েছে। যেখানে পুরুষ ও নারী ভারোত্তোলকরা আলাদা আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ নেবেন। সকাল-বিকাল দু’বেলা চলবে প্রস্তুতিপর্ব। বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশন এসএ গেমস উপলক্ষে যে আবাসিক ক্যাম্প ডেকেছে এর মধ্যে পুরুষ ইভেন্টে বাংলাদেশ আনসারের মোস্তাইন বিল্লাহ ছাড়া অপর দশজনই নতুন মুখ। তারা হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আবদুল ওহাব, জিয়ারুল ইসলাম ও তুষার আহমেদ, বাংলাদেশ আনসারের শেখ নাইমুল ইসলাম, সুমন চন্দ্র রায় ও আশিকুর রহমান, বিজিবির দুর্জয় হাজং ও হাফিজুর রহমান, ফায়ার সার্ভিসের ইজাজ আহমেদ এবং বাংলাদেশ জেলের রাজ কুমার রায়।

     

    অপরদিকে ১১ জন নারী ভারোত্তোলকদের মধ্যে চারজন নতুন মুখ রয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্মৃতি আক্তার, মনিরা কাজী, মার্জিয়া আক্তার ইকরা এবং বাংলাদেশ আনসারের লামিয়া আক্তার পাখি। পুরনোদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রোকেয়া সুলতানা সাথী, বাংলাদেশ আনসারের মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, মোল্লা সাবিরা সুলতানা, ফুলপতি চাকমা, ফাহিমা আক্তার ময়না, জহুরা আক্তার নিশা এবং বিজেএমসির জহুরা আক্তার রেশমা। এ ছাড়া প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছেন চার কোচ। তারা হলেন- ফারুক আহমেদ সরকার, মো. মোতালেব হোসেন, কাজল দত্ত এবং ফিরোজা পারভীন। ক্যাম্প কমান্ডারের দায়িত্বে রয়েছেন বিদ্যুৎ কুমার রায়। তার সাথে রয়েছেন দুই সুপারভাইজার খলিলুর রহমান ও আনিসুর রহমান।

    এসএ গেমসের প্রস্তুতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অন্যতম সহসভাপতি ও টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান উইং কমান্ডার অব. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ভারোত্তোলকরা সবাই সার্ভিসেস দলের হওয়ায় বলতে গেলে সারা বছরই তারা অনুশীলন, প্রশিক্ষণ আর প্রতিযোগিতার মধ্যেই থাকেন। এটি একটি প্লাস পয়েন্ট। তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ফেডারেশনের পক্ষে মাসপ্রতি বিশেষ বৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে। ফলে নিজেদের খেলার মনোন্নয়নে এক্ষেত্রে সবাই সিরিয়াস। কাজেই নেপাল থেকে ভালো একটা ফল লাভ আসতে পারে।

     

    তিনি জানান, গেমস থেকে রৌপ্য আর ব্রোঞ্জ পদক একাধিক আসার সম্ভাবনা থাকলেও স্বর্ণজয়ের মতো সেই ক্ষেত্র এখনো তৈরি হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্র্যাকটিস ভেন্যু দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সেন্ট্রাল এসি করা, পুরনো ইকুয়েপমেন্টসগুলোর বদলে প্রয়োজনীয় নতুন ইকুয়েপমেন্টসের ব্যবস্থা করা আর বিদেশী কোচ আনা গেলে হাতে যে সাড়ে তিন মাস সময় পাবো তাতে স্বর্ণপদক জয়ের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, পদক জয়ের ক্ষেত্রে কাঠমান্ডুতে আরো দু’টি প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। সেটি হচ্ছে যখন গেমস হবে তখন সেখানে প্রচণ্ড শীত থাকবে। আরেকটি হচ্ছে আমাদের থেকে নেপালের উচ্চতা প্রায় তেরহাজার ফিট উপরে। তাই হিমালয়কন্যার দেশে দলকে গেমসের অন্তত এক সপ্তাহ আগে পাঠাতে পারলে সেখানে প্র্যাকটিসের মাধ্যমে আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সুবিধা হবে। তাই এসব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল স্বর্ণজয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে পারে। উল্লেখ করা যেতে পারে উইং কমান্ডার অব. মহিউদ্দিন আহমেদ যখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তখন এসএ গেমস থেকে পরপর টানা দুইবার স্বর্ণপদক লাভ করে বাংলাদেশ।

     

    এদিকে, বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্ণেল মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারোত্তোলকরা এসএ গেমসে সাফল্য অর্জনের লক্ষে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের আমরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সর্বোচ্চটা দেবার জন্য চেষ্টা করছি। তিনি আরো জানান, প্র্যাকটিস ভেন্যু, ইকুয়েপমেন্টস ও বিদেশী কোচের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

     

    এ প্রসঙ্গে অবশ্য বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা জানান, ভারোত্তোলনের জন্য চীন থেকে কোচ আনার চেষ্টা চলছে।

     

    অপরদিকে বিওএ’র ট্রেনিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব একে সরকার জানান, গেমস উপলক্ষে আমরা প্রতিটি ডিসিপ্লিনেরই ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছি। তাদের আরো কীভাবে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়, সে পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

     

    এদিকে সবশেষ এসএ গেমসে ভারতের গোয়াহাটিতে স্বর্ণজয়ী নারী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত জানান, গেমসের জন্য আমরা কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছি। সাফল্য অর্জনের জন্য মুখিয়ে আছি। নেপালে আমরা শক্তি-সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও লড়ে যাবো। সূত্র : ক্রীড়াজগত।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/এমএ


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা