ওয়ানডের পর টি২০ সিরিজও জয় টাইগারদের – BD Sports 24
  • ওয়ানডের পর টি২০ সিরিজও জয় টাইগারদের

    August 6th, 2018

    ক্রীড়া ডেস্ক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    লডারহিল (ফ্লোরিডা), ৬ আগস্ট: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১এ জেতার পর তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজও ২-১এ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ ফ্লোরিডার লডারহিলে বৃষ্টিবিঘ্নিত শেষ টি২০ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ডি/এল মেথডে ১৯ রানে হারিয়ে ২-১ সিরিজ পকেটস্থ করে টাইগাররা।

    প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ১২ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনে বাংলাদেশ। আজ লডারহিলে তৃতীয় টি২০ ম্যাচে ডিএল মেথডে ১৯ রানে ক্যারিবীয়দের হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় সাকিব-তামিমরা।

    উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শুরুতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ২-০তে বাজেভাবে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর সীমিত ওভারের দু’টি সিরিজ জয়ে বীরের বেশে দেশে ফিরবে টাইগাররা।

    বাংলাদেশের দেয়া ১৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে চাদউইক ওয়ালটন এবং আন্দ্রে ফ্লেচার ২৬ রান যোগ করেন। আন্দ্রে ফ্লেচারের উইকেটটি নেন টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ৭ বলে ৬ রান করে নাজমুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ফ্লেচার।

    এরপর ক্যারিবীয় শিবিরে আঘাত হানেন সৌম্য সরকার। পঞ্চম ওভারে নাজমুল তার নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলটি করার পর হাতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। নাজমুলের ওই ওভারের বাকি ৩টি বল করতে আসেন সৌম্য সরকার। সৌম্য ওই ওভারের পঞ্চম বলে চাদউইক ওয়ালটনকে বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমানের ক্যাচে পরিণত করলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ালটন ১৯ বলে ৩টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৯ রান করেন। দলীয় রান তখন ৩০।

    আর মাত্র ২ রান যোগ করতেই সাজঘরে ফিরেন মারকুটে ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অসাধারণ ঘূর্ণি বলে স্যামুয়েলসের স্ট্যাম্প উড়ে গেলে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে ক্যারিবীয়দের। ২ রানের বেশি এগুতে পারেননি তিনি।

    চতুর্থ উইকেটে দিনেশ রামদিন ও রভম্যান পাওয়েল ৪৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে বিচ্ছিন্ন হন। টাইগার পেসার রুবেল হোসেন এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে দিনেশ রামদিনকে বোল্ড করে দেন। রামদিন ১৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ২১ রান করেন।

    দলীয় ৯৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় ও. ইন্ডিজ। মোস্তাফিজুর রহমানের এবারের শিকার রভম্যান পাওয়েল। ২৩ রান করা পাওয়েল মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আবু হায়দার রনির হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।

    এরপর ব্রেথওয়েটের সাথে জুটি বাধেন মারকুটে ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেল। আন্দ্রে রাসেল ক্রিজে এসেই একের পর এক ছক্কা হাঁকাতে থাকেন। ষষ্ঠ উইকেটে আন্দ্রে রাসেল ও ব্রেথওয়েট ২০ বলে ৩২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ৫ রান করা ব্রেথওয়েটকে বিদায় করে দেন পেসার আবু হায়দার রনি।

    এরপর মোস্তাফিজুর রহমান তার চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে আন্দ্রে রাসেলকে আরিফুল হকের ক্যাচে পরিণত করলে সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ততক্ষণে ২১ বলে ১ চার ৬ ছক্কায় ৪৭ রান করে ফেলেন আন্দ্রে রাসেল। দলীয় রান তখন ১৩৫। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

    পরে বৃষ্টি বন্ধ না হওয়ায় বাংলাদেশকে ডি/এল মেথডে ১৯ রানের জয় ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।

    সেইসাথে ২-১এ টি২০ সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজও ২-১ জিতেছিল বাংলাদেশ। আর সিরিজের শুরুতে টেস্ট সিরিজ ২-০তে হেরে যায় বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর একাই শিকার করেন ৩ উইকেট। সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, রুবেল হোসেন ও আবু হায়দার রনি একটি করে উইকেট নেন।

    এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার লিটন দাসের ৩২ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে শেষ টি২০ ম্যাচে ৫ উইকেটে ১৮৪ রানের বড় স্কোর গড়ে টাইগাররা।

    লিটন দাস ও তামিম ইকবাল প্রথম ৪ ওভারে যোগ করেন ৫৬ রান। এরপরের ওভারে আরও ১০ রান যোগ করলে প্রথম ৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬৬/১। লিটন দাস মাত্র ২৪ বলে ৫০ রান যোগ করে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করেন আজ।

    বাংলাদেশের প্রথম ৫০ রান আসে মাত্র ২২ বলে (৫২ রান)। এরপরের ৫০ রান আসে ৪১ বলে। এরপরের ৫০ রান আসে ৩৯ বলে।

    তামিম ইকবাল ও লিটন দাস উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৪.৪ ওভারে ৬১ রান যোগ করেন। এটি টি২০’র পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তামিম ইকবাল ১৩ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ২১ রান করে আউট হন।

    এরপর ৬৬ রানে বিদায় নেন ওয়ানডাউনে নামা সৌম্য সরকার। ৪ বলে ৫ রান করেন সৌম্য। তৃতীয় উইকেটে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহীম ৩১ রান যোগ করেন। মুশফিকুর রহীম ১৪ বলে ১টি চারের সাহায্যে ১২ রান করেন।

    আর মাত্র ৫ রান যোগ করতেই আউট হন ওপেনার লিটন দাস। ৩২ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬১ রান করেন লিটন দাস। ১৫তম ম্যাচে এসে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পান লিটন দাস।

    পঞ্চম উইকেটে সাকিব-মাহামুদুল্লাহ ৪৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে বিচ্ছিন্ন হন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অ্যাসলে নার্সের বলে কেমু পলের হাতে ধরা পড়ার আগে নিজের নামের পাশে যোগ করেন ২৪ রান। তার ২২ বলের ইনিংসে ২টি বাউন্ডারির মার রয়েছে।

    ষষ্ঠ উইকেটে অভিজ্ঞ মাহামুদুল্লাহ ও আরিফুল হক ২৪ বলে ৩৮ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ গড়লে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১৮৪/৫। মাহামুদুল্লাহ ২০ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। আরিফুল হক ১৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ছিলেন ১৮ রানে।

    ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে অধিনায়ক ব্রেথওয়েট ও কেমু পল দুটি করে এবং কেসরিক উইলিয়ামস নেন ১ উইকেট।

    ১৬.৩ ওভার খেলা হওয়ার পর বৃষ্টির কারণে প্রায় আধ ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। এরপর পুনরায় খেলা শুরু হয়।

    ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশের ওপেনার লিটন দাস। আর সিরিজ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন টাইগার দলপতি সাকিব আল হাসান।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা