কি আছে হকির ভাগ্যে? – BD Sports 24
  • কি আছে হকির ভাগ্যে?

    December 21st, 2017

    মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি

    রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামের। বছরের এ সময়টাতে খেলা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যেত খেলোয়াড়দের। কিন্ত এখন যেন অফুরন্ত অবসর হকির সাথে সংশ্লিষ্টরা। কোথাও কোন তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা যায় না। যদিও মাসদুয়েক আগেই এশিয়া কাপ হকির আসর জমজমাটভাবেই শেষ করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তারপরই কালো ছায়া আরো একবারের মতো ভর করেছে দেশের তৃতীয় জনপ্রিয় খেলাটিতে।

    এশিয়া সেরা আসরের দু’দিন পরই না ফেরার দেশে চলে যান অন্তঃপ্রাণ সংগঠক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ। হকি ষ্টেডিয়ামে এখন শোক ব্যানারে ছেয়ে গেছে। প্রবেশ করতে এবং বের হতে গেলে মনে কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কালো কাপড়ের মতো করেই এখন যেন শোক পালন করছে হকি। একেবারে পীনপতন নীরবতাই সঙ্গী খেলাটির।

    নতুন বসানো নীল টার্ফও যেন বেদনায় নীল হয়ে আছে। নিয়ম করে প্রতিবছর বিজয় দিবস হকির আয়োজন করা হলেও বহু বছর পর এবার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যেন অনেকটাই রংহীন হকি। ফেডারেশনের সভাপতির রুমের দরজায় নামফলক শোভা পেলেও সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কারোরই নামফলক নেই। আছে কোষাধ্যক্ষ, টুর্নামেন্ট কমিটি আর প্রেস কনফারেন্স রুমের। এটাই যেন আসল চিত্র নিয়ে হাজির হয়েছে।

    টার্ফের হকির মতোই অনেকটা বিবর্ণ খেলাটির বর্তমান কার্যক্রম। মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে এক পক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। আরেক পক্ষ অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছে। ফেডারেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক গত ২৭ নভেম্বর থেকে প্রিমিয়ার ডিভিশনের দলবদলের ঘোষণা দিলেও তাতে ক্লাবগুলো থেকে সাড়া মেলেনি। অন্যপক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া উষা ক্রীড়াচক্রের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশীদ শিকদার পরোক্ষভাবে নির্বাচনের দাবিই জানিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় নিয়মিত আয়োজন করা বিজয় দিবস হকিও পড়ে গেছে অনিশ্চয়তার মুখে।

    খেলোয়াড়রাও মুখ ফুটে কিছু বলছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আন্দোলন করে প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর দাবি আদায় করতে হবে। কারণ এ আসরই খেলোয়াড়দের রুটি-রুজির যোগান দিয়ে থাকে। ঘরোয়া আসরগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লে ক্ষতি যা হওয়ার তা হবে দেশের হকির।

    এশিয়া কাপে সেরা সাফল্য হিসেবে ধরা হয় ষষ্ঠ স্থান অর্জনকে। কারণ এতে করে পরবর্তী আসরের জন্য বাছাইপর্ব খেলার ঝুঁকি নেই। কিন্তু টার্ফের হকিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কেমন হয়েছে সেটা সবারই জানা। সে কারণে হকি ছেড়ে এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন খেলোয়াড়রা।

    রাজধানীর আরমানিটোলা আর ফরিদপুরই ছিল এতদিন খেলোয়াড় তৈরির সুতিকাগার। দু’জায়গাতেই এখন চলছে হাহাকার। বাঁচিয়ে রাখার যতটুকু তার সবই করছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। জাতীয় দলে ঘুরে ফিরে সেই পুরনো মুখরাই আসছে। অনেকটা স্থবির হয়ে পড়া হকিতে তবুও কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব কমছে না।

    এখন শোনা যাচ্ছে এডহক কমিটি করা হবে হকিতে। তাতে সমস্যা যে কমবেনা এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তাহলে কি আছে হকির ভাগ্যে, জবাব দেবার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া গেল না। নীরব আর নিস্তরঙ্গ হয়ে পড়া হকিকে বাঁচাতে ক্রীড়া প্রশাসনের এখনই এগিয়ে আসা উচিত।

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/এসটি


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১