‘ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতার দায়ভার এককভাবে কারো নয়’ – BD Sports 24
  • ‘ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতার দায়ভার এককভাবে কারো নয়’

    November 19th, 2019

    ক্রীড়া প্রতিবেদক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ১৯ নভেম্বর: ‘ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতার দায়ভার এককভাবে কারো নয়’, এটা সামগ্রিক ব্যাপার। পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে পারলে সময়ের ব্যবধানে সাফল্য আসে। তবে সাফল্যটা চূড়ান্ত কিছু নয়, সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারাই বড় ব্যাপার। আজ দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সম্মেলন কক্ষে বিএসপিএ আয়োজিত ‘এসএ গেমস: বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার বদিউজ্জামান মিলন উপস্থাপিত প্রবন্ধের উপর আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

     

    এসএ গেমসের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মাঝে ব্যবধান খুঁজতে অলিম্পিক, জাতীয় ক্রীড়াপরিষদ ও ফেডারেশন কর্মকর্তার পাশাপাশি খ্যাতিমান ক্রীড়া সাংবাদিক ও খেলোয়াড়রা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

     

    সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএসপিএ’র সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএসপিএ সভাপতি মোস্তফা মামুন।

    বিওএ সহ-সভাপতি এবং মিডিয়া কমিটির সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেন, আমরা ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি চাই। সরকার, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, ফেডারেশন, মিডিয়া ও খেলোয়াড়দের মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে যেতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ফেডারেশনগুলো এগিয়ে এলে ক্রীড়ায় সবচেয়ে বেশি ইতিবাচকতা সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আমরা মিডিয়ার গঠনমূলক সমালোচনাও প্রত্যাশা করি।

     

    এসএ গেমস শেষে যদি বিএসপিএ এই গেমসের সামগ্রিক মূল্যায়ন নিয়ে সেমিনার আয়োজন করতে চায়, তাহলে বিওএ সহযোগিতা দেবে।

     

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মাসুদ করিম বলেন, আমাদের কেউ কেউ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেন। অথচ এমন স্বপ্ন দেখা উচিত যা আমাদেরকে ঘুমাতে দেবে না। ক্রীড়ায় একক কারণে সাফল্য আসে না। এটা সামগ্রিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ক্রীড়ায় সফলতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে সেই প্রকল্পের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে। আমরা শুধু সম্ভাবনা দেখতে অভ্যস্ত, বাস্তবতাকে হয়তো ঠিকভাবে দেখি না।

     

    বিওএ’র যুগ্ম মহাসচিব এবং এসএ গেমসগামী বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের সেফ দ্য মিশন আসাদুজ্জামান কোহিনুর তার মূল্যায়নে বলেন, এখানে একাধিক সাংবাদিক বেশ গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমি এটা বলতে চাই, কোনো ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের সুস্পষ্ট তথ্য পেলে এবং আমাদেরকে তা জানালে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।

    বিওএ’র কোষাধ্যক্ষ এবং সেমিনারের পৃষ্ঠপোষক ব্লেজারবিডি’র কর্ণধার কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল বলেন, খেলাধুলায় সামাজিক সহায়তা সবচেয়ে জরুরি। একজন ফেডারেশন কর্মকর্তা হিসেবে আমিও স্বর্ণ ও রৌপ্যের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছি।

     

    ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার আনিসুর রহমান বলেন, ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে না পারলে ক্রীড়ায় অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা যায় না। বাস্তবতা ও প্রত্যাশার ফারাক এ পথেই রচিত হয়। তবে বড় স্বপ্ন থাকতেই হবে।

     

    জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ পদকটা চাইছি। কারণ দেশের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্য।

     

    দৈনিক কালের কণ্ঠের সিনিয়র ক্রীড়া প্রতিবেদক সনৎ বাবলা বলেন, আমাদের মত দেশে হতাশা থাকবেই। তারপরও ইতিবাচক ভাবনা জরুরি। আমি মনে করি শ্যুটিং ও আরচ্যারীর মত ইভেন্টের দিকে আমাদের বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। পরিকল্পনা ও চেষ্টা থাকলে অন্য ফেডারেশনও এগিয়ে যেতে পারবে।

    ২০১০ এসএ গেমসে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কারাতেকা হাসান খান সান বলেন, খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা থাকলে দেশের ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে যাবে। খেলেয়াড়দের স্পন্সরশিপের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।

     

    মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা করিম নেলী মনে করেন, দেশের একমাত্র নারী ক্রীড়াবিদের মূল আবাসন মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স সব কিছু মানসম্মত নয়।

     

    উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জালাল হোসেন বলেন, তৃণমূল থেকে উঠে আসা ক্রীড়াবিদদের পিছুটান বেশি থাকে। তাদের আর্থিক নিশ্চয়তাও নেই। আমরা ধারাবাহিক প্রশিক্ষণও দিতে পারি না।

     

    হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান স্বপন বলেন, ভারত আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাদের বাজেটও বেশি। আমরা সীমাবদ্ধতা নিয়েও আশাবাদী।

    যমুনা টিভির স্পোর্টস এডিটর রানা হাসান জানান, আমাদের অনেক সম্ভাবনা থাকলেও উন্নয়নের বস্তুনিষ্ঠ পরিকল্পনা নেই। তাই সাফল্যের ধারাবাহিকতাও থাকে না।

     

    প্রথম আলোর সিনিয়র ক্রীড়া প্রতিবেদক মাসুদ আলম বলেন, ফেডারেশন মাথা গুনে টাকা নিলেও আবাসিক ক্যাম্পে খেলোয়াড়রা মানহীন খাবার খেতে বাধ্য হন।

     

    টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা বিশ্বাস করি প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। দুই তিনটি ব্রোঞ্জ পদক পেতে পারি।

     

    সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাসান বলেন, আমরা ৩০ কিলোমিটারে স্বর্ণ প্রত্যাশা করছি। ৪০ কিলোমিটার ইভেন্টেও ভালো করবো।

     

    তায়কোয়াডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা বলেন, আমরা দুটি স্বর্ণপদক পাবো বলে আশা করছি।

    চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের ক্রীড়া সম্পাদক দিলু খন্দকার বলেন, ফেডারেশনগুলো সরকারি অনুদান নিয়ে বেশি ভাবে। আমাদেরকে খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলার ধরন ঠিক করতে হবে। তিনি অন্য ফেডারেশনগুলোকে বিসিবিকে অনুসরণ করার কথা বলেন।

     

    ২০১৬ এসএ গেমসে জোড়া স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারু এবং এবারের আসরে বাংলাদেশের পতাকা বহনকারী মাহফুজা খাতুন শিলা বলেন, খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য এনে দেয়া ক্রীড়াবিদদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত।

     

    ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা প্রশিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে জানি না। এই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।

     

    খোখো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাবুল বলেন, আমাদের কোনো মাঠ নেই। তারপরও আমরা সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী।

    টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোর্শেদ জানান, আমরা কখনই কোনো কিছু শতভাগ দিতে পারি না।

     

    জাগোনিউজের সিনিয়র ক্রীড়া প্রতিবেদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব ইভেন্টে চর্চা থাকে, শুধু সেসব ইভেন্টে খেলোয়াড় পাঠানো উচিত।

    সাফ গেমস স্বর্ণপদকজয়ী শুটার এবং শুটিং ফেডারেশনের কোচ সাইফুল আলম রিংকি বলেন, এই ইভেন্টে পদক জেতার একটা ধারাবাহিকতা থাকায় প্রত্যাশা বেশি।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে

     

     


অতিথি কলাম

    No posts here...

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

    No posts here...

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা