জেনে নিন রাশিয়া বিশ্বকাপের অজানা তথ্য – BD Sports 24
  • জেনে নিন রাশিয়া বিশ্বকাপের অজানা তথ্য

    June 11th, 2018

    আনওয়ার আহমেদ মুন
    বিডিস্পোর্টস২৪ডটকম
    ঢাকা, ১১ জুন ২০১৮ : প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিশাল এক দেশ রাশিয়া। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ব্যবসা-বানিজ্যসহ সব কিছুতে সমৃদ্ধ এক জনপদ রাশিয়া। অনন্য বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির অপরূপ রূপের আধার, লীলাভূমি রাশিয়ায় আর ক’দিন বাদে হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ।

    বাজছে বিশ্বকাপের দামামা। প্রতি চার বছর পরপর আসে বিশ্বকাপ ফুটবল। দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয়তম এ ক্রীড়া আসর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার মাটিতে শুরু হবে ১৪ জুন। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের এটি হবে ২১ তম আসর।
    আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। হাতে মোটেও সময় নেই। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে। প্রস্তুতির প্রায় শেষ পর্যায়ে রাশিয়া। প্রায় ৯৯% প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে আয়োজক রাশিয়া। এখন শুধু ঝালিয়ে নেওয়ার পালা। শেষ দিকে এসে স্টেডিয়ামে মিডিয়া, ব্রডকাস্টার, ভিআইপি অতিথি ও স্টেডিয়াম ব্যবহারকারীদের কোনো ঝামেলা ছাড়া চলাফেরার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সারা দুনিয়ার মানুষের চোখ এখন রাশিয়ার দিকে। ইতোমধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজক দেশটি। এর মধ্যে আছে পর্যটকদের সুবিধার্থে রুশ ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিকেও গুরুত্ব দেয়া। এছাড়া রাস্তাঘাট, বিমান বন্দর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সবখানেই সংস্কার কাজ চলছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে বিশাল আকারের টেলিভিশন মনিটর।

    রাশিয়া ও বিশ্বকাপ ২০১৮
    ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর রাশিয়াকে ২০১৮ আসরের স্বাগতিক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল ফিফা। তবে আসরের স্বাগতিক শহর নির্ধারণী প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে। ২০০৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাগতিক হওয়ায় আগ্রহী দেশগুলো নিবন্ধন শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ৯টি দেশ এ আসরের স্বাগতিক হওয়ার জন্য নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। কিন্ত মেক্সিকো এ কার্যধারা হতে তাদের নাম প্রত্যাহার করে। পরবর্তীতে ফিফা ইন্দোনেশিয়ার নাম বাতিল করে দেয়, কারণ তাদের সরকার এ নিলামকে সমর্থন প্রদানের চিঠি পাঠাতে ব্যর্থ হয়।

    এ নিলামের প্রক্রিয়ায় ৩টি নন-উয়েফা দেশ (অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ক্রমান্বয়ে এ নিলাম হতে তাদের নাম প্রত্যাহার করে। অবশেষে এ আসরের নিলামের জন্য মাত্র ৪টি নাম অবশিষ্ট ছিল, তারা হলো: ইংল্যান্ড, রাশিয়া, বেলজিয়াম/নেদারল্যান্ডস (যৌথ) এবং পর্তুগাল/স্পেন (যৌথ)।

    ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর জুরিখে ২২ সদস্যবিশিষ্ট ফিফা নির্বাহী পরিষদ সমবেত হয়ে স্বাগতিক দল নির্বাচন করে। স্বাগতিক নির্বাচনে ভোটের দ্বিতীয় পর্বে রাশিয়া জয়লাভ করে এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করে। এ নিলামে পর্তুগাল/স্পেন দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এবং বেলজিয়াম/নেদারল্যান্ডস তৃতীয় স্থান অধিকার করে। স্বাগতিক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পথে ভোটের প্রথম পর্বেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের।

    অর্থায়ন ও বাজেট
    বিশ্ব ফুটবলের ২১তম আসর আয়োজনে ব্যয় হবে ৬.৭ বিলিয়ন ডলার (৩৯০ বিলিয়ন রুবল)। অর্থ্যাৎ, ৬৭০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমান দাঁড়াচ্ছে ৫৫ হাজার ৪২৩ কোটি। এর মধ্যে খেলাধুলা সম্পর্কিত স্থাপনা নির্মাণ এবং সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে এ অর্থের ৩৮ ভাগ। বাকি অর্থ ব্যয় হচ্ছে বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি করা রাস্তা, সর্বসাধারণের ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে।

    রাশিয়া যে ১১টি শহরে বিশ্বকাপের আয়োজন করবে, সেগুলো হচ্ছে মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ, সোচি, কাজান, সারানস্ক, ক্যালিনিংগ্রাদ, ভলগোগ্রাদ, রোস্তভ-অন-ডন, নিজনি নভগর্দ, ইয়েকাটেরিনবার্গ এবং সামারা। মোট ১২ স্টেডিয়ামের দুটি অবস্থিত রাজধানী মস্কোয়।

    ১৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবক
    ২০১৮ বিশ্বকাপ ব্যাকস্টেইজ সামলাতে প্রস্তুত ১৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। বিশ্বকাপে ভেন্যু, টিম হোটেল, প্র্যাকটিস ভেন্যু থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব স্থানে দর্শনার্থী ও খেলোয়াড়দের কাজকে সহজ করতে সাহায্য করবে এসব স্বেচ্ছাসেবীরা।
    রীতিমত পরীক্ষা দিয়ে তারা পকেটে ভরেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিটও। তবে টিকিটটা এমনি এমনি হাতে আসেনি। ১ লাখ ৭৬ হাজার আবেদনকারীর সাথে রীতিমত যুদ্ধ করে জায়গা নিশ্চিত করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবল ভক্তরা।

    স্বেচ্ছাসেবক তালিকার ৭০ ভাগ রাশিয়ান, বাকিরা সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইন স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে। স্বেচ্ছাসেবকদের ৬৪ ভাগই নারী। আছেন সাধারণ শিক্ষার্থী, ড্রাগন বোট রেসার থেকে শুরু করে ওয়েল ট্যাংকার জাহাজের ক্যাপ্টেনও।

    স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচনের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। তাদের শেখানো হয়েছে অ্যাক্রিডিটেশন, অপারেশন্স, ট্রান্সপোর্ট, ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসেস, ডোপিং কন্ট্রোল, টিকেটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ। ৪ হাজার বিদেশি স্বেচ্ছাসেবককে রীতিমত খাটতে হয়েছে বইপত্র হাতে নিয়ে। পুশকিন স্টেট রাশিয়ান ল্যাংগুয়েজ ইন্সটিটিউটের ওয়েব সাইটে পরীক্ষায় উত্তর্ঢু হয়ে তবেই হাতে পেয়েছেন রাশিয়ার টিকিট।

    স্বেচ্ছাসেবকদের ইউনিফর্ম
    রাশিয়া বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটি তাদের টুইটার পেজে স্বেচ্ছাসেবকদের ইউনিফর্ম পোস্ট করেছে। এবারের ইউনিফর্ম থাকছে লালের আধিক্য। লাল রঙের জ্যাকেটের সামনের বাম দিকে আছে রাশিয়া বিশ্বকাপের লোগো এবং ডান দিকে বড় করে সোনালী হরফে লেখা। জ্যাকেটের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের থাকবে নীল রঙের প্যান্ট, লাল রঙ্গের টুপি ও ব্যাকপ্যাক। প্রত্যেকটির সঙ্গেই থাকছে বিশ্বকাপের লোগো।

    ইংরেজি ভাষার প্রাধান্য
    দেশটিতে রুশ ভাষার একচেটিয়া প্রাধান্য রয়েছে। অন্য কোন ভাষার ব্যবহার নেই বললেই চলে। তবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশটিতে ইংরেজির প্রাধান্য বেড়েছে। কারণ ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। যেটি বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্রচলন রয়েছে। পুরো

    বিশ্ব থেকে ফুটবল প্রেমীরা হাজির হবে রাশিয়ায়। তাই তো, রাশিয়ায় সড়কের দিক নির্দেশক এতোদিন রুশ ভাষায় লেখা থাকলেও এখন এর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাস এবং পাতাল রেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টেশনের পরিচিতি সংক্রান্ত ভাষাতেও রুশের পাশাপাশি ইংরেজির ব্যবহার হচ্ছে। হোটেল, রেষ্টুরেন্ট ও সুপার মলে চাকরির ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় দক্ষদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

    ভিএআর প্রযুক্তি
    রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হবে ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারিজ বা ভিএআর প্রযুক্তি। অর্থাৎ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সব রিভিউ স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দেখানো হবে তাই কোনো ভুল হবার সুযোগ কম।

    আইএফএবির মতে ম্যাচে কেবল চারটি সিদ্ধান্ত নিতে ভিএআর ব্যবহৃত করা যাবে – সেগুলো হলো- গোল, পেনাল্টি ও সরাসরি লাল কার্ড নিয়ে এবং ভুল করে কাউকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে।

    তবে এ প্রযুক্তির যথার্থতা নিয়ে বিতর্ক আছে শুরু থেকেই। তাই তো ফিফাও এ বিতর্ক এড়াতে বেশ সতর্ক। সেজন্য ফ্লোরেন্সে রেফারিদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারিরা এ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। চলতি বছর মার্চে অনুমোদন পাওয়ার পরই ফিফা সিদ্ধান্ত নেয়, রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্যবহার করা হবে এ ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তি।

    ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে ভিএআর প্রথমবার ব্যবহৃত হয়। চলতি মৌসুমে জার্মানি ও ইতালির ঘরোয়া ফুটবলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্পেনের লা লিগায় এবং ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে আগামী মৌসুমে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা শুরু হবে।

    রাশিয়ান দর্শকদের জন্য সুখবর
    নিজ দেশের ফুটবল সমর্থকদের জন্য দারুণ এক সুখবর দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্রাদিমির পুতিন। তাদের যাতায়াতের জন্য খুব স্বল্প মূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ কোম্পানী অ্যারোফ্লোট। বিশ্বকাপ চলাকালে এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে টিকিটের দাম পড়বে মাত্র ৫ রুবল বা ৯ সেন্ট (০.০৯ ডলার)।

    সকল দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ম্যাচের তিন দিন আগে আমরা টিকিট বিক্রি শুরু করব। তবে এ সুযোগটি একমাত্র রাশিয়ার ফুটবল দর্শকরাই ভোগ করতে পারবে। বর্তমানে এ উড়োজাহাজগুলোতে প্রায় ৭০ হাজার আসন রয়েছে। যদি রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে যেতে পারে তাহলে আসন আরো বাড়ানো হতে পারে।

    ফ্রি ট্রেন সার্ভিস
    রাশিয়া বিশ্বকাপের সঙ্গে যুথবদ্ধ হয়েছে সেদেশের রেলওয়ে। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল পার্টনার হয়েছে তারা। দেশের বিভিন্ন শহরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা যেন সহজে আর নিরাপদে দেখতে পারেন পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শকরা সেই জন্য ৭২৮ টি নতুন ট্রেন ৩১ টি রোডে চলাবে রাশিয়ান রেলওয়ে। শুধু তাই নয়, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার হিসেবে বিশ্বকাপ চলাকালে ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত রাশিয়ান রেলওয়ে বিশ্বকাপের স্বাগতিক শহরগুলোর মধ্যে ৮,৮০,০০০ ফ্রি ট্রিপ দেবে।

    ভিসাবিহীন রাশিয়া বিশ্বকাপ
    যারা দেশের বাইরে যাওয়া-আসা করেন বা করেছেন তারা ভালো ভাবেই জানেন ভিসার প্রয়োজনীয়তা। ভিসা ছাড়া দেশের বাইরে পা রাখার কথা চিন্তাই করা যায় না। অথচ বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ দেখতে লাগবে না কোনো ভিসা। কি অবাক হচ্ছেন!

    লাখ লাখ ফুটবলভক্ত রাশিয়া ভ্রমণ করবেন বিশ্বকাপ চলাকালীন। এত বিশাল সংখ্যক সমর্থককূলের জন্য ভিসা অনুমোদন করা কঠিন কাজই। রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ এ ঝামেলা এড়ানোর জন্য নিয়েছে চমৎকার এক সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপের দর্শকদের জন্য কোনো ভিসাই লাগবে না।

    খবরটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য যে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিনা ভিসায় রথও দেখা হবে কলাও বেঁচা হবে! কিন্তু, কত দিন আগে যাওয়া যাবে রাশিয়া?
    রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর ১০ দিন আগে রাশিয়ায় যেতে পারবেন দর্শকরা। থাকতে পারবেন বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত। এরপরই বিদায় নিতে হবে রাশিয়া থেকে। বিশ্বকাপের সময়কালীন ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন দর্শকরা। অবশ্য তাদেরকে সঙ্গে রাখতে হবে দর্শক-কার্ড বা ফ্যান আইডি। বিশ্বকাপের টিকিট তো লাগবেই।

    ‘ফ্যান আইডি’
    খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে নতুন এ ব্যবস্থা। ফ্যান আইডি সংগ্রহের জন্য জমা দিতে হবে পাসপোর্টের তথ্য, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত সব তথ্যই। এসব তথ্য পর্যালোচনা করবে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা। একবার এ আইডি পেলেও তা বাতিল হতে পারে যেকোনো সময়। তবে সুখবর এ আইডি থাকলে আলাদাভাবে রাশিয়ার ভিসার প্রয়োজন হবে না, বৈধ পাসপোর্ট থাকলেই চলবে।

    ফ্যান আইডি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অংশ। এটা সমর্থকের পরিচিতি দেবে। যারা ঝামেলা করবে বা আইন ভাঙবে, তাদের এ আইডি দেওয়া হবে না।
    আইডির আবেদনের পর তৈরি হচ্ছে বিশেষ তালিকা। বৈধ টিকিট থাকলেও অভিযুক্তদের কোনো অবস্থাতেই স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেয়া হবে না। অতীতে রাশিয়ায় গ্রেপ্তার হয়েছে যারা, তাদেরও স্টেডিয়ামে ঢুকতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    মুসলমানদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
    ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম সাত মুসলিম দেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। যার কারণে বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে রাশিয়ায় প্রায় ১ লক্ষ মুসলিম পর্যটক থাকার সম্ভাবনা আছে।

    রাশিয়া একটি অমুসলিম দেশ। তাই সেখানে এত সংখ্যাক মুসলিম একসাথে থাকলে হালাল খাবার ব্যবস্থা থেকে শুরু বিভিন্ন অসুবিধা হতে পারে। এছাড়া বিশ্বকাপ শুরুর দিকে থাকবে রমজান মাস। তাই আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে মুসলমানদের সুবিধার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

    ফিফা জানিয়েছে, ‘তারা রাশিয়াতে বেশ কয়েকটি রেষ্টুরেন্টে হালাল খাবারের ব্যবস্থা করবে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ডে নামাজের সময়সূচি দেওয়া থাকবে। কয়েকটি অস্থায়ী মসজিদও নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে ফিফা। এছাড়া অমুসলিম দেশটিতে মুসলমানরা যেন কোন ধরনের হয়রানির স্বীকার না হয় সেজন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

    প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সাতটি মুসলিম দেশ হলো-তিউনিসিয়া, মরক্কোর, মিশরের, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, সৌদি আরব, ইরান।

    ‘রণক্ষেত্র’ হবে না
    রাশিয়া বিশ্বকাপ মানে কোনো ‘রণক্ষেত্র’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, সমর্থকদের মধ্যে যে কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধে সব রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন রুশ কর্তৃপক্ষ এবং প্রেসিডেন্ট ভ্রাদিমির পুতিন।

    ফিফা প্রধান বলেন, ‘আমরা কোনো রণক্ষেত্রে যাচ্ছি না। আপনারা দেখবেন, আমরা একটি ফুটবল পার্টিতে যোগ দিতে যাচ্ছি। সেখানে যদি কেউ কোনো ধরনের বিপত্তি ঘটাতে চায় তাহলে সে নিজেই সমস্যায় পড়বে।’

    ইনফান্তিনো আরো বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনকে সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করার বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে কোনো ধরণের সহিংসতা বিশেষ করে রুশ এবং ইংলিশ সমর্থকদের মধ্যে দাঙ্গা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।’

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা
    আইএসের হুমকি বা অতীতে ফুটবল মাঠের সংঘর্ষের ঘটনায় সতর্ক রাশিয়া। বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে রাখতে চায়না কোন নিরাপত্তা ত্রুটি। খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে নতুন এ ব্যবস্থা। ফ্যান আইডি সংগ্রহের জন্য জমা দিতে হবে পাসপোর্টের তথ্য, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত সব তথ্যই। এসব তথ্য পর্যালোচনা করবে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা।

    ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক রাশিয়া হুলিগানদের আগেই দিয়েছে সতর্কবার্তা। শুধু তাই নয়, স্টেডিয়ামে ঢোকার পথে এবং স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন করেছে যে সেখানে সন্ত্রাস করতে গেলে বুঝি দানবীয় ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে!

    ২০১৮ বিশ্বকাপের জন্য হাই-টেক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সজ্জিত করা হয়েছে। এ হাই-টেক সিকিউরিটি সিস্টেমের মধ্যে আছে সুপার-সেনসিটিভ মেটাল ডিটেক্টর। স্টেডিয়ামের পথে স্টিল-গেট এন্ট্রি চেকপয়েন্টে এ ডিটেক্টর থাকছে। ফ্যানদের বিশ্বকাপের সময় মাঠে যাওয়ার পথে নিরাপত্তাকর্মীরা হাতে ধরা স্ক্যানার দিয়ে চেক করবেন। সব ব্যাগকে এয়ারপোর্ট-স্টাইল এক্স-রে মেশিনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

    মাঠে দর্শকদের আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য ভিডিও ক্যামেরা তো থাকছেই। খেলার সময় অ্যান্টি-রায়ট পুলিশ এবং ফুটবল দর্শক সামলানোর জন্য বিশেষ ট্রেনিং নেওয়া স্টুয়ার্ডরা থাকবেন ঘোরাফেরায় বা প্রেটোলে।

    ফুটবলার সঙ্গিনীদের বিশেষ নিরাপত্তা
    ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন উদ্যোগে আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ফুটলারদের স্ত্রী অথবা বান্ধবীদের জন্য গ্রহণ করা হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    ফুটবলার ছাড়া কোচদের পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তা পাবেন। আর এ জন্য পরিবারের সদস্যরাও তাদের অফিসিয়াল পরিবহণেই ভ্রমণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন খেলোয়াড়রা। তাই খেলোয়াড়দের নিশ্চিন্ত রাখতেই এফএ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    রাশিয়া পরিচিত
    পূর্ব ইউরোপ ও উত্তর এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়া। যার পূর্ব নাম ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। রাশিয়া সরকারিভাবে রুশ ফেডারেশন নামে পরিচিতি। রাশিয়া বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

    ১৯২২ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত রাশিয়া ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র। সে সময় অনেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে রাশিয়া নামে চিনলেও আসলে রাশিয়া ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫টি অংশের একটি। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠার পূর্বে রাশিয়ায় রাজতন্ত্র প্রচলিত ছিল।

    ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে শীতলযুদ্ধের অবসান ঘটে। ফলে রাশিয়া মুক্তবাজার ও গণতন্ত্রে প্রবেশ করে।

    রাশিয়ার মতো এতো বেশি খনিজসম্পদ বিশ্বের অন্য কোনো দেশের নেই। রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। দেশের বেশিরভাগ জনগণ রুশ ভাষায় কথা বলে। আরও প্রায় ৮০টিরও বেশি ভাষা প্রচলিত। খ্রিস্টধর্ম রাশিয়ার প্রধান ধর্ম।

    দেশটির আয়তন দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডার আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। রাশিয়ার আয়তন প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ বর্গ কিঃমিঃ। যা পৃথিবীর ১১ শতাংশ জায়গা দখল করে আছে। রাশিয়া বিশ্বের নবম জনবহুল দেশ। ১৪৩ মিলিয়নের অধিক লোক বসবাস করে।

    রাশিয়ার চার-পঞ্চমাংশ জনগণ এর পূর্ব ইউরোপীয় অংশে বাস করে। উত্তর এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে জায়গা সম্প্রসারণের ফলে রাশিয়া ৯টি সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং এখানে অনেক রকম ও বিস্তৃত পরিবেশের সমন্বয় ঘটেছে।

    রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব পর্যন্ত নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ড (উভয় দেশই কালিনিনগ্রাদ অব্লাস্ত সীমান্ত দিয়ে যুক্ত), বেলারুশ, ইউক্রেন, জর্জিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, চীন, মঙ্গোলিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সাথে সীমান্ত আছে। দেশটির অখতস্ক সাগরের মাধ্যমে জাপানের সাথে ও বেরিং প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার সাথে সামুদ্রিক সীমানা রয়েছে।

    রাশিয়া দেশটি হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বলে এখানে থাকাটা বরং খুবই কষ্টকর এবং প্রতিকূল। রাশিয়ার অর্থনীতি বিশ্বে দশম বৃহত্তম। রাশিয়ার অর্থনীতির বিশাল অংশই প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল।

    ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বসবাস এ রাশিয়াতে। রুশ মুসলিমদের ইতিহাস রাশিয়াতে প্রায় ১,১০০ বছরের! রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতেই কমপক্ষে ২৫-৩৫ লক্ষের মত মুসলিমের বসবাস!

    রাশিয়ান ফেডারেশন ১৪৫ টি জাতিগোষ্টীর সমন্বয়ে গঠিত। রাশিয়া পৃথিবীর দ্বিতীয় শক্তিশালী সেনাবাহিনী। বৃহত্তম অস্ত্রবিক্রেতা। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যে কোনো দেশের বিদেশি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া।

    এক নজরে রাশিয়া
    রাষ্ট্রীয় নাম : রাশিয়া ফেডারেশন
    রাজধানী : মস্কো
    ভাষা : রুশ
    জাতীয়তাসূচক বিশেষণ : রুশি, রুশ, রুশীয়, রাশিয়ান
    সরকার : যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র
    রাষ্ট্রপতি : ভ্রাদিমির পুতিন
    প্রধানমন্ত্রী : দিমিত্রি মেদভিয়েদিয়েভ
    আইন-সভা : ফেডারেল সভা
    আয়তন : ১,৭০,৯৮,২৪৬ বর্গ কিমি
    লোকসংখ্যা : ১৪ কোটি ৪৫ লক্ষ
    মুদ্রা : রুশ রুবল
    স্বাক্ষরতার হার (১৫+) : ১০০%
    মাথাপিছু আয় : ১৪,৪৬১ মার্কিন. ডলার
    সংখ্যাগরিষ্ট সম্প্রদায় : খ্রিস্টান (৩৩.৩%)
    গড় আয়ু : ৬৯.১ বছর
    কলিং কোড : +৭
    জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ : ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫

    বিডিস্পোর্টস২৪ডটকম/এমএ


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা