ঝিনাইদহে বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে মধুহাটী ও কালীচরণপুর সেমিফাইনালে – BD Sports 24
  • ঝিনাইদহে বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে মধুহাটী ও কালীচরণপুর সেমিফাইনালে

    September 9th, 2018

    এলিস হক, ঝিনাইদহ হতে

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঝিনাইদহ, ৯ সেপ্টেম্বর: ঝিনাইদহে বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মধুহাটী ও কালীচরণপুর ইউনিয়ন ফুটবল দল। আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় ঝিনাইদহ জেলা সদরের স্থানীয় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় রাউন্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের ২টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রথম খেলায় মধুহাটী অতিসহজে ৪-০ গোলে মহারাজপুর ইউনিয়ন দলকে এবং দ্বিতীয় খেলায় কালীচরণপুর ইউনিয়ন ২-০ গোলে নলডাঙ্গা ইউনিয়ন দলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে।

    বিজয়ী মধুহাটী দল খেলার প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আরো ২টি গোল হয়। খেলার প্রথমার্ধে ৬ মিনিটের সময় মধুহাটীর ৯ নম্বর জার্সি খেলোয়াড় সুমন হেড করেন এবং গোলকিপার পায়েল ঠিক মতো বল ধরতে পারেননি। বল ধরতে তার হাত ফসকে গোলপোস্টে জড়িয়ে যায় (১-০)।

    প্রথমার্ধে ২৪ মিনিটের সময় বাঁদিকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে যান মধুহাটীর ১০ নম্বর জার্সি খেলোয়াড় অধিনায়ক সামিরুল দুইজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সোজা কিক করে গোলকিপার পায়েলকে পরাস্ত করেন (২-০)।

    বিরতির পর উদ্যম নিয়ে খেলতে নামে মধুহাটী দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭ মিনিটে মধুহাটীর অধিনায়ক সামিরুলের পাস হতে ৭ নম্বর ইমরান ডি বক্সের মাঝখান হতে পোস্টে শট করেন। বল ফার্স্ট বারে লেগে ফেরত এলে সুযোগ হাতছাড়া করেননি। সন্ধানী খেলোয়াড় ইমরান বল গোলে পুশ করেন (৩-০)। এবং সবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪ মিনিটে মধুহাটীর অধিনায়ক সামিরুলের সেন্টার থেকে বল উড়ে আসে ১১ নম্বর জার্সি খেলোয়াড় আরিয়ানের কাছে। আরিয়ান আর ভুল করেননি। সোজা শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে (৪-০)।

    পক্ষান্তরে মহারাজপুর ইউপির আক্রমনভাগের খেলোয়াড়েরা বেশ কয়েকবার বল নিয়ে উপরে নিয়ে গেলেও প্রতিপক্ষ মধুহাটীর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা কৃতিত্বের সঙ্গে প্রতিহত করেন।

    খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান মধুডাঙ্গার অধিনায়ক ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় সামিরুল।

    মধুহাটী ইউপি: গোলকিপার মুকুল ১৭, তাজিন ২, সাব্বির ৩, উজ্জল ৪, তৌফিক ৫, ইমরান ৭ (সাদিকুল ১২), সুমন ৯, সামিরুল ১০ (অধিনায়ক), আরিয়ান ১১, মুজাহিদ ১৩ ও আশিকুর ১৬।

    মহারাজপুর ইউপি: গোলকিপার পায়েল ১, মিশাত আলী ২, জুয়েল ৪ (ইমরান ৩), আলামিন মুন্না ৫, গোলাম কিবরিয়া ৬, নাহিদ হাসান ৭, হৃদয় হাসান ৮, সাইদুর রহমান ১০ (অধিনায়ক), বাপ্পি ১১, আকাশ লস্কর ১৪ (অন্তর মিয়া ১৩) ও জীবন মিয়া ১৬।

    রেফারি: জামাল হোসেন। সহকারী রেফারি : শেখ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও সেলিম হোসেন। ৪র্থ সহকারী রেফারি : আজিজুর রহমান শামিম।

    দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে অপেক্ষাকৃত ভালো ফুটবল খেলা পরিবেশনের সুবাদে কালীচরণপুর ইউপি দল ২-০ গোলে জিতে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে। তারা প্রতিপক্ষ নলডাঙ্গা ইউপি দলকে কোনঠাসা করে রাখে উভয়ার্ধে। অবশ্য নলডাঙ্গা দল ৩/৪টি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু কালীচরণপুরের গোলরক্ষক শাহেদ এবং রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রানা, মেহেদী, প্লাবন ও শাওনের দৃঢ়তার কারণে প্রতিপক্ষের আক্রমণকে রুখে দেন। কালীচরণপুর দলের অধিনায়ক সাব্বির হোসেন সারা মাঠ চষে খেলেন এবং দলকে খেলিয়েছেন। লেফট উইং জাকারিয়া নির্ঝর ও রাইট উইং সাইমুনের জায়গায় বার বার আক্রমন রচনা করতে দেখা যায়।  প্রতিপক্ষ দলকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন কালীচরণপুরের মিডিওকার তাজমুল হোসেন।

    তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়েরা ক্রীড়া মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়ে স্থানীয় দর্শকদের যথেষ্ট আনন্দ দান করেছেন। খেলার প্রথমার্ধে ২৮ মিনিটে সংঘবদ্ধ আক্রমণ হতে কালীচরণপুরের দলনায়ক সাব্বির গোল করে দলকে এগিয়ে নেন (১-০)। অবশ্য এর ২ মিনিট পর আরেকটি গোল করেছিল। কালীচরণপুরের ৬ নম্বর জার্সি তানজিল রেজার একটি পরিচ্ছন্ন গোল করলেও রেফারি সেলিম হোসেন ফাউলের বাঁশি বাজান। কালীচরণপুরের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা গোলকিপার রাব্বিরকে ধাক্কা দিয়েছে বলে রেফারি আইন সংকেত দেন। এ নিয়ে কালীচরণপুরের দর্শকরা আরো উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে কালীচরণপুরের অধিনায়ক সাব্বির জানান, এটা পরিষ্কার ন্যায্য গোল ছিল। গোল হওয়ার পর পরই রেফারি গোলের বাঁশি বাজিয়েছেন। কিন্তু পরের মুহূর্তে মত পাল্টে রেফারি ফাউলের নির্দেশ দেয়া হলে আমরা সবাই অবাক! পরে জানা গেলো, আসলে গোল করার আগে বক্সের মধ্যে গোলকিপারকে আঘাত করেছে কালীচরণপুরের ফরোয়ার্ডরা।

    এর আগে খেলার প্রথমার্ধে ১৯ মিনিটের সময় নলডাঙ্গা দলের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় সাজ্জাদ একটি গোল করেছিলেন। কিন্তু অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় গোল বাতিল হয়ে যায়।

    বিরতির পর সমতা আনতে নলডাঙ্গা দল অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু কালীচরণপুরের গোলকিপার শাহেদের দৃষ্টি নজর থাকায় গোল করা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি নলডাঙ্গা দলের। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে কালীচরণপুর জয়সূচক গোল করে। কর্ণার কিক করেন রানা। বল উড়ে আসে। সেটপিসে থাকা ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় সাইমুন ইসলাম বলকে সাপের মতো ছোবল মেরে জালে জড়িয়ে দেন (২-০)।

    খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ হিসেবে নির্বাচিত হন কালীচরণপুরের ১১ নম্বর খেলোয়াড় সাব্বির হোসেন।

    রেফারি: সেলিম হোসেন। সহকারী রেফারি: শেখ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও জামাল হোসেন। ৪র্থ সহকারী রেফারি আজিজুর রহমান শামিম।

    কালীচরণপুর ইউপি: গোলকিপার শাহেদ ২২, মেহেদী হাসান ২, প্লাবন সরকার ৩, শাওন আহম্মেদ ৪, সাকিব হোসেন ৫, তানজিল রেজা ৬ (নুর ইসলাম ১৫), তাজমুল হোসেন ৮, সাইমুন ইসলাম ১০, সাব্বির হোসেন ১১ (অধিনায়ক) ও জাকারিয়া হক নির্ঝর ১৭।

    নলডাঙ্গা ইউপি: গোলকিপার রাব্বির ১৭, শাকিল ২, রকি ৩, বিপ্রা মন্ডল ৪, মেহেদী ৬, সবুজ মন্ডল ৭ (অধিনায়ক), সাজ্জাদ হোসেন ১০, আজাদ ১২ (আসিফ ইকবার ৫), বিল্লাল ১৪, নয়ন হোসেন ১৫ ও পারভেজ হাসান ১৬।

    রোববার বিকেলে ঝিনাইদহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী ইসলাম, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার হোসনে আরা, ঝিনাইদহ ডিএসএ’র সিনিয়র নির্বাহী সদস্য জয়নাল আবেদীন, ঝিনাইদহ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বাবু বিকাশ কুমার ঘোষসহ অন্যান্য ক্রীড়া কর্মকর্তাবৃন্দ এই সময় ফুটবল খেলা প্রত্যক্ষ করেন এবং পুরস্কার তুলে দেন।

    সোমবারের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল-গান্না ইউপি ও সুরাট ইউপি এবং

    চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনাল-পাগলাকানাই ইউপি ও হরিশংকরপুর ইউপি।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

    No posts here...

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

    No posts here...