ঝিনাইদহ ক্রীড়াঙ্গনে কর্তব্যে-নিষ্ঠায় কর্মপ্রিয় মুখ জয়নাল আবেদীন – BD Sports 24
  • ঝিনাইদহ ক্রীড়াঙ্গনে কর্তব্যে-নিষ্ঠায় কর্মপ্রিয় মুখ জয়নাল আবেদীন

    September 5th, 2018

    এলিস হক, ঝিনাইদহ হতে

    ক্রীড়া ডেস্ক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঝিনাইদহ, ৫ সেপ্টেম্বর: এক সময়ে ফুটবল খেলেছেন। ভালো ফুটবল খেলতেন। কিন্তু খেলতে গিয়ে বেশ চোট লাগতো। পায়ে পায়ে আঘাত লাগাই স্বাভাবিক। এভাবে আঘাত পাওয়া তার কাছে ভীষণ অপছন্দের। এখন কী করা যায়? এমন কোনো খেলা কি আছে যে, যেখানে স্বাচ্ছন্দের সাথে নির্বিঘ্নে খেলা যায়? ফুটবলের চেয়ে কাবাডির উপর তার চোখ পড়ে যায়। কাবাডিই বেশি টানে। নেশা পেয়ে বসলো। ব্যস শুরু হলো কাবাডি খেলার বিচরণ।

    বহুদিন কাবাডি খেলেছেন-তার কোনো হিসাব নেই। এক সময়ে কাবাডি জগত হতে অবসর নিলেও তিনি এখন কাবাডির পুরোধা। এক কথায় ক্রীড়া সংগঠক। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের কাউন্সিলর। খুলনা বিভাগীয় কাবাডি কমিটির চেয়ারম্যান এবং ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র নির্বাহী সদস্য। আপাতমস্তক সেই ভদ্রলোকের নামে সাতকাহনের কাহিনী লেখা হলো-যিনি আর কেউ নন, তিনিই জয়নাল আবেদীন।

    যাকে নিয়ে লেখা হয় এই ঘটনার কাল ছিল সেই ১৯৭৭ সালে। মহেশপুর তখনও উপজেলা হয়নি..একটা গ্রাম ছিল। সেই মহেশপুর গ্রাম হতে ঝিনাইদহ শহরে খেলতে আসেন। ফুটবল খেলার পত্রপাঠ নিয়ে পরবর্তীতে কাবাডিতে। এইভাবে ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাঁর রক্তে অস্থিমজ্জায়।

    গত ৩ সেপ্টেম্বর। দুপুর ২টা। স্থানটা ছিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ। কড়া রোদ। মাঝে মধ্যে মেঘের আনাগোনাও চলছিল। বেশ গরম। স্কুলের আঙ্গিনায় বিশাল খেলার মাঠ। উদ্দেশ্য-জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জন্য মাঠের ভেতরে যাবতীয় কাজ দেখভাল করা।

    সেই মাঠের এক কোনায় গোলপোস্টের কিনারে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। মাঠকর্মীকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন গোলপোস্টের নেটকে কিভাবে পেছনে টেনে আনতে হয় এবং কিভাবে সেই নেটের শেষপ্রান্তের নাইলনের দড়িকে মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়…এই কৌশলগুলো মাঠকর্মীকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। প্রয়োজনীয় ফাইলপত্র তার বাম হাতের উপর আকড়ে রেখে কাজটি করছিলেন তিনি।

    এই প্রতিবেদককে দেখামাত্রই তিনি হেসেই বললেন..‘কথা বলার টাইম নেই…দেখছেন তো মাঠে কত কাজ! টাইম পাইলে অনায়াসে টুকটাক কথা বলা যেতো…আড্ডা দেয়া যেতো। খেলা হবে দুয়েক ঘন্টা।’ ক্রীড়াঙ্গনের সকল মানুষ এই ভদ্রলোককে চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। সর্বস্তরের মানুষ এক নামে চেনেন সকলের কর্মপ্রিয় মুখ ‘জয়নাল ভাই’কে।

    মাঠের কাজ শেষ হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরমেয়র থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গনের যত ক্লাব-সংস্থা প্রতিষ্ঠান ছিলেন যারা, সবার সাথে একে একে কুশল বিনিময়ে করেছেন এবং সবার সাথে মিশেছেন তিনি। এমন কি মঞ্চে স্থাপিত মাইক্রোফোনের সামনেও আসলেন তিনি। তিনি বিগত কয়েক বছরের সালতামামির বিবরণ দিয়েছেন।  এবং সর্বশেষ ঝিনেদার খেলাধুলার খবরাখবর নিয়ে উপস্থিত শ্রোতাদর্শকদের সামনে চমৎকার উপস্থাপন করেছেন। ঝিনাইদহ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিকাশ কুমার ঘোষ, ঝিনাইদহ জেলা ফুটবল রেফারি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহসহ আরো অনেকের  সাথে বেশ অন্তরঙ্গ হয়ে কথা-বার্তা বলেছেন তিনি।

    ৩ সেপ্টেম্বরের সোমবার পুরোদিন তাকে দেখা গেছে ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যে। দম ফেলার সময় ছিল না। একদম কাজপাগল। কাজ ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। সারা বাংলাদেশে অসংখ্য ক্রীড়া সংগঠক আছেন তারা ক্রীড়াঙ্গনের মঞ্চে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন এবং আশার আলো পথ চিনিয়ে দিচ্ছেন..ঝিনাইদহ ক্রীড়াঙ্গনে ক্রীড়ানিবেদিত প্রাণ জয়নাল ভাই তাদের মধ্যে অন্যতম একজন।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

    No posts here...

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

    No posts here...