ঝিনাইদহ ফুটবল খেলার সমাচার – BD Sports 24
  • ঝিনাইদহ ফুটবল খেলার সমাচার

    August 29th, 2018

    এলিস হক, ঝিনাইদহ থেকে

    ক্রীড়া ডেস্ক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঝিনাইদহ, ২৯ আগস্ট: ঝিনাইদহের ফুটবল খেলা থেমে নেই। চলছে তো চলছে। কে বলবে যে বাংলাদেশের ফুটবল স্তিমিত হয়ে পড়ছে? গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে দেখবেন খেলা কোথাও না কোথায় তো হচ্ছে। গ্রামভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা হচ্ছে। শহরজুড়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা হচ্ছে। পারলে স্থানীয় স্টেডিয়ামেও হচ্ছে এবং হবে।

    তারপরও কী বলা উচিত নয় যে, ফুটবল খেলা বাংলাদেশে হারিয়ে যাচ্ছে! নিশ্চয়ই নয়।

    প্রাইমারি স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা অনেকটা নীরবে নিভৃতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ঝিনাইদহ শহরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল প্রতিযোগিতায় মাত্র কিছুদিন আগে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের বিভিন্ন মাঠে ফুটবল প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। বাকি আছে শুধু ছেলে ও মেয়েদের ফাইনাল খেলা।

    সুখবর! আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সারা বাংলাদেশে ছেলেদের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল প্রতিযোগিতা গড়াবে। আয়োজন করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এটা ভালো উদ্যোগ। এই প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, একাডেমির খেলোয়াড়রা খেলায় অংশ নিতে পারবে।

    এদিকে কিছুদিন আগে ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী হাই স্কুল মাঠে কলাবাগান এলাকার কিছু ফুটবল প্রেমী কলাবাগান প্রিমিয়ার ফুটসাল লীগের আয়োজন করেছে। সাড়া জাগানো এই সাইড-এ-সেভেন ফুটবলে স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক ও আকর্ষণীয় খেলা হিসেবে সকলের মনে দারুণ দৃষ্টিনজর কেড়েছে। বৃষ্টি মৌসুমে পিচ্ছিল মাঠে খেলোয়াড়েরা নিজেদের ফুটবল খেলা মেতে উঠেন।

    সবার জন্য ফুটবল। ফুটবল সকলের কাছে উন্মুক্ত। বয়স কোনো বিষয় নয়। কোনো বাধা ছাড়াই যেকোনো খেলোয়াড়েরা খেলতে পেরেছেন। নিঃসন্দেহে শেষ বিকেলের মাঠে ফুটবলপ্রেমী ও তরুণ ক্রীড়া সংগঠক সৌমিন রায়সহ অন্যান্য তরুণ সংগঠকরা এই মহৎ ফুটবল আয়োজনের ব্যাপারে সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। নিজেও এক সময় ফুটবল খেলেছেন। সময় পেলেই তিনি দাপিয়ে বেড়ান মাঠে। এই চিত্র এখন ঝিনাইদহের মাঠে ঘাটে দেখা যাবে।

    আরেকটি সংবাদ আসছে, গত কয়েকদিন আগে অর্থাৎ ১৬ আগস্টে কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঝিনাইদহ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং সাইফ পাওয়ার ব্যাটারির পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ-২০১৮। এতে দশটি ক্লাব খেলছে। নিঃসন্দেহে স্থানীয় লিগে এটা সর্বোচ্চ ফুটবল প্রতিযোগিতা।

    মাস দেড়েক আগে মনে রাখার মতো নানা নাটুকেপনার মধ্যদিয়ে রাশিয়ায় একুশতম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শেষ হয়েছে। বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলেও এর রেশ এখনো ঝিনাইদহ শহরে-গ্রামে-গঞ্জে ছোঁয়া রয়েই গেছে। সুন্দর পাসিং খেলছেন স্থানীয় খেলোয়াড়েরা। আর চমৎকার ক্রীড়া মুন্সিয়ানার ছাপ চোখে পড়েছে। আসলে পাসিং খেলার জন্মই হয়েছে ফুটবল খেলায়। মুখস্ত করে পাস দিয়ে কোনো উপকৃত হয় না। ফুটবল খেলতে থিম লাগে…রিদম লাগে…ট্যাকটিক্স লাগে…এবং স্ট্র্যাজেটিক্যালি গেইম লাগে। ফুটবলের প্রথম পূর্বশর্ত হলো-খেলোয়াড়দের মধ্যে মৌলিক খেলার ছন্দ জানা ভীষণ জরুরী।

    ফুটবল খেলায় যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রমী খেলোয়াড়েরা এই খেলার মাঠে যোগ্য। এর পাশাপাশি স্ট্যামিনা তো অবশ্যই। স্ট্যামিনা ছাড়া খেলা যায় না। পাসিং ছাড়াও রিসিভিং শেখা খুব প্রয়োজনীয় মৌলিকত্বের একটি অংশ। রিসিভ বাদে যদি কোনো খেলোয়াড়কে  মাঠে নামানো হয়, তাহলেই শিডিউল বিপর্যয়ের সম্ভাবনা একশত ভাগ। দলীয় খেলার ছন্দপতন দ্রুত ডেকে আনে যদি খেলোয়াড়েরা রিসিভিং করতে না পারেন। এক টাচেই শট মারতে যান অনেক খেলোয়াড়েরা। ফলে বল সময়মতো রিসিভ না করে যদি পায়ে মারতে যান, তবে বিরাট মিসটেক। পায়ের তালে গোলেমালে সবকিছু গড়বড় হয়ে যাবে। মাথায় হাত দিয়ে বলতে থাকবেন-‘হায় আফসোস’। মানের বিচারে অনেক সতীর্থ খেলোয়াড়েরা এতে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন।

    আগেই বলা হয়েছে ফুটবল আসলে ট্যাকটিক্যালি ও টেকনিক্যালি খেলা। উভয়ের থিম পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। একটি ছাড়া অন্যটিতে অচল। যাইহোক-ফুটবল খেলা এমনই নেশা। শেষ বিকেলের পারদে আজকাল কিশোর-যুবকরা বিনোদনের উদ্দেশ্য নিয়ে ফুটবল খেলে। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় নেশা। নেশা বললে ভুলই বলা হবে। শারীরিক ও মানসিক ক্ষেত্রে উভয় সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সুস্থ থাকাই হলো সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কাজেই খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

    ফুটবল আছে বলেই ছোট-বড় সবার জন্য প্রতিযোগিতা হয়। এটাই সবচেয়ে বড় চিত্তবিনোদনের অংশ। স্থানীয় দর্শকরা আসেন বিনোদন উপভোগ করতে। বাদাম খেতে খেতে খেলা শেষ হয়ে যায়। কখন যে খেলা হয়েছে তা টের পান না অনেক ক্রীড়ামোদীরা। এই হলো ফুটবল খেলার জগত।

    খেলোয়াড়েরা ভালো ফুটবল খেলা পরিবেশন করলে আমোদী দর্শকরা ভীষণ আনন্দিত হন। হাততালি দিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন। এটাই চরম পাওয়া। সত্যি কথা বলতে গেলে ফুটবল খেলার বাইরে আরেকটি বিনোদনের জগত আছে বলে অনেকেই মনে করতে চান না।

    ফুটবল খেলার সবচেয়ে বড় বিনোদন হলো পাসিং খেলা..বল রিসিভ করা..সর্বোপরি ড্রিবলিং করতে জানা এবং গোল করা। সবমিলিয়ে এই গণরায়ের পা-গোলক খেলা। এইভাবে বেঁচে আছে ঝিনাইদহের ফুটবল জীবন। তার প্রমাণ মেলে কালীগঞ্জের মাঠে প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের স্থানীয় ১০টি ক্লাবের মধ্যে চরম উৎসাহ-উদ্দীপনায় তারা খেলে চলেছেন এবং এখনো খেলছেন….!! এটাই ফুটবল খেলার সবচেয়ে বড় মাহাত্ম্য ও বৈশিষ্ট্য।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা