নতুনদের নিয়েই স্বপ্ন দেখছে অ্যাথলেটিকস – BD Sports 24
  • নতুনদের নিয়েই স্বপ্ন দেখছে অ্যাথলেটিকস

    September 9th, 2019

    বিশেষ সংবাদদাতা
    বিডিস্পোর্টস২৪.কম
    ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর: এসএ গেমসের অ্যাথলেটিকসে গেল দু’টি আসরে স্বর্ণজয়ের খবর নেই। সবশেষ আসরে রৌপ্য পদকও খুইয়েছে। শেষ সম্বল বলতে ব্রোঞ্জের মধ্যেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশীয় অ্যাথলেটিকস। অথচ এক সময় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এ ক্রীড়া উৎসবে এদেশের অ্যাথলেটরাই ‘দ্রুততম মানব’ হতেন, স্বর্ণপদকও জিততেন।

     

    কিন্ত সেসব সোনাঝরা দিনগুলো আর নেই। তবে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুনদের নিয়েই স্বপ্ন দেখছে অ্যাথলেটিকস। বর্তমানে উদীয়মান অ্যাথলেটদের টাইমিং আসন্ন এসএ গেমসে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট, ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট, হাই জাম্প ও রিলের টাইমিং পারফরম্যান্সই সম্ভাব্য স্বর্ণজয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তাই তো ওইসব ইভেন্টে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে অ্যাথলেটদের থাইল্যান্ড ব্রুনাই পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে কোচ আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পেও। ফলে সবকিছু মিলে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেশীয় অ্যাথলেটিকস।

    বাংলাদেশ সবশেষ ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় স্বর্ণপদক জিতেছিল। ১১০ মিটার হার্ডলসে ১৪.১৯ সে. সময় নিয়ে এমন কৃতিত্ব দেখিয়ে ছিলেন মাহফুজুর রহমান মিঠু। অন্যদিকে লাল-সবুজের দেশ এ গেমস থেকে সবশেষ ‘দ্রুততম মানব’ পেয়েছিল ১৯৯৩ সালে। বিমল চন্দ্র তরফদার ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৬১ সে. সময় নিয়ে ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম মানব হবার গৌরব অর্জন করেছিলেন। পরবর্তী সময় দেশের আর কোনো অ্যাথলেটই এ ধরনের কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি। বিমলের আগে অবশ্য ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এবং ১৯৮৭ সালে কলকাতায় পরপর দু’বার দ্রুততম মানব হয়েছিলেন মো. শাহ আলম। গত ১২টি আসর থেকে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৮টি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য ও ৪৪টি ব্রোঞ্জপদক জয় করেছে।

    নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দুই মাস বিশ দিন পরেই এয়োদশতম এসএ গেমসের আসর বসতে যাচ্ছে। সাফল্য অর্জনের লক্ষে দেশসেরা অ্যাথলেটরা তাদের প্রিয় ইভেন্টগুলোয় সকাল-বিকেল কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক আঙিনায় দীর্ঘ সময় ধরে দু:সময় কাটানো অ্যাথলেটিকসে কতটা কী করতে পারে সবকিছুই তাদের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করছে। বর্তমানে আবাসিক ক্যাম্পে যে ২৬ জন অ্যাথলেট রয়েছেন এর মধ্যে কেবলমাত্র ৬ জনের এসএ গেমসে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অপর ২০ জন একেবারেই নতুন মুখ। নবীন আর অভিজ্ঞদের নিয়েই দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক গেমসখ্যাত এসএ গেমসে বাজিমাৎ করতে চাইছে ঘরোয়া অ্যাথলেটিকস।

    বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু বলেন, অতীত নিয়ে বসে থাকার অবকাশ নেই। বর্তমানকে সঙ্গী করেই এগুতে হবে। নতুনদের নিয়েই স্বপ্ন দেখতে হবে। তাদেরকে এখন থেকেই সেভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, আমি যখন অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলাম তখন থেকেই অ্যাথলেটদের মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। যা এখনো চলমান রয়েছে।

     

    শুধু তাই নয়, এসএ গেমসকে সামনে রেখে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথাও জানালেন। বিশেষ করে যেসব ইভেন্টে সম্ভাব্য স্বর্ণপদক আসতে পারে এমন সম্ভাবনাময় ইভেন্টের অ্যাথলেটদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেবার জন্য থাইল্যান্ড ও ব্রুনাই পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কোচ আনার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, বর্তমানে স্থানীয় কোচদের দিয়ে বিকেএসপি’তে আবাসিক ক্যাম্পে ১৪ জন পুরুষ ও ১২ জন নারীসহ মোট ২৬ জন অ্যাথলেট প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে জানান, আগের চেয়ে অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স অনেক ভালো। কিছু কিছু ইভেন্টে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত শ্রীলঙ্কার অ্যাথলেটদের টাইমিংয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। কাজেই এ সুযোগ হারাতে চান না অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন, প্রশিক্ষণের জন্য সময় মতো যদি থাইল্যান্ড ব্রুনাইয়ে কিছু অ্যাথলেট পাঠাতে পারি, বিদেশী কোচ আনতে পারি আর গেমস শুরুর অন্তত পনের দিন আগে প্রস্তুতির জন্য পূর্ণাঙ্গ দল নেপালে পাঠাতে পারি তাহলে কাঙ্ক্ষিত পদক জয় কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।

    ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর ফরিদ খান চৌধুরী জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই ফেডারেশনের অর্থায়নে অ্যাথলেটরা প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছেন। তবে এসএ গেমসকে সামনে রেখে জুলাই থেকে বিওএ’র অর্থায়নে বিকেএসপি’তে প্রশিক্ষণ চলছে। এদিকে স্প্রিন্ট ও হার্ডলস কোচ মাহবুবা ইকবাল বেলী জানিয়েছেন, অ্যাথলেটদের ক্রমশ: উন্নতি হচ্ছে। কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তারা গেমসের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠছেন।

     

    অপরদিকে ক্যাম্প কমান্ডার মো. জামাল হোসেন জানান, সকাল-বিকেল দু’বেলাই বিকেএসপি’র ট্র্র্যাকে অ্যাথলেটরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। স্প্রিন্টার মো. ইসমাইল হোসেন জানান, আমরা যারা আবাসিক ক্যাম্পে রয়েছি সবার মধ্যেই নেপালের এসএ গেমসে ভালো করার প্রত্যয়ে মুখিয়ে আছি।সূত্র : ক্রীড়াজগত

    ক্যাম্পে ডাক পাওয়া অ্যাথলেট
    পুরুষ অ্যাথলেট : মো. ইসমাইল হোসেন (১০০ মি. ৪x১০০ মি. লং জাম্প), মো. হাসান মিয়া (১০০মি. ৪x১০০ মি.), মো. জহির রায়হান (৪০০মি. ৪x৪০০ মি.), মো. আবু তালেব (৪০০মি. ৪x৪০০ মি.), মো. মাসুদ রানা (২০০মি. ৪x১০০ মি.), মো. কামরুল হাসান (৮০০মি. ৪x৪০০ মি.), খন্দকার কিবরিয়া (৮০০মি. ৪ঢ৪০০ মি.), মো. আল আমিন (১৫০০০ মি. ৫০০০ মি.), মির্জা হাসান (১১০মি. হার্ডেলস, ৪x১০০ মি.), মো. ইবাদ আলী (৪০০মি. হার্ডেলস, ৪x৪০০ মি.), আল আমিন (লং জাম্প, ৪x১০০ মি.), মো. মাহফুজুর রহমান (হাই জাম্প), এম ইব্রাহিম হোসেন (শটপুট) এবং মো. মামুন শিকদার (ডিসকাস থ্রো)।

    নারী অ্যাথলেট : শিরিন আক্তার (১০০মি. ২০০মি. ৪x১০০ মি.), সোহাগী খাতুন (১০০মি. ২০০মি. ৪x১০০ মি.), শরীফা খাতুন (১০০মি. ২০০মি. ৪ঢ১০০ মি. ৪x৪০০ মি.), রুপা খাতুন (১০০ মি. ৪x১০০ মি.), সুমী আক্তার (৪০০ মি. ৮০০মি. ৪x৪০০ মি.), সাবিহা আল সোহা (৪০০ মি. ৪x৪০০ মি.), পাপিয়া খাতুন (৮০০ মি. ৪x৪০০ মি.), সুমিতা রানী (১০০ মি. হার্ডেলস, ৪x১০০ মি.), তামান্না আক্তার (১০০ মি. হার্ডেলস, ৪x১০০ মি.), রিংকী খাতুন (লং জাম্প, ৪x১০০ মি.), উম্মে হাফসা রুমকী (হাই জাম্প, ৪x১০০ মি.) এবং পাপিয়া আক্তার (বর্শা নিক্ষেপ)।

    ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর : ফরিদ খান চৌধুরী। কোচ : মাহবুবা ইকবাল বেলী (স্প্রিন্ট ও হার্ডলস), মো. হাফিজুর রহমান (থ্রো), মো. মতিউল আলম (স্প্রিন্ট), মো. আবদুল্লাহ হেল কাফি (স্প্রিন্ট), ফৌজিয়া হুদা জুঁই (জাম্প ও স্প্রিন্ট)। ক্যাম্প কমান্ডার : মো. জামাল হোসেন।

    বিডিস্পোর্টস২৪.কম/এমএ


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা