নতুন কমিটিতে বদলাবে হকি? – BD Sports 24
  • নতুন কমিটিতে বদলাবে হকি?

    January 14th, 2018

    মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি: নির্বাচন নিয়ে একটা অস্থির সময়ের মধ্যে হঠাৎই অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। যেখানে কামনা ছিল নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কমিটি সেখানে নতুন করে আবারো পুরনো রোগে পেয়েছে বসেছে খেলাটিকে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২০ (এ) বি ধারায় ৩১ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

    সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে যে কাড়াকাড়ি সেটাতে লাগাম আনতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। কিন্তু তাতেই কি সমাধান হবে, বদলাবে হকি? সময়ের অপেক্ষা করলেও ঝড়ের পূর্বাভাস মিললেও মিলতে পারে? কারণ নতুন কমিটিতে বেশকিছু রদবদল আনা হয়েছে। পরিচিত কিছু মুখকে বাদ দেওয়া হয়েছে আর নতুন যাদের আনা হয়েছে হকিতে তাদের অবদান নিয়েও আলোচনা হচ্ছে চারিদিকে।

    তবে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার নিয়ে যে টানাটানি সেটা হয়তো ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মতো প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। দুটি পদই বেতনভুক্ত।

    দ্বন্দ্ব কমাতে এই উদ্যোগের কথা নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদের শুনিয়েছেন। তাতে প্রথমেই সংশোধন করতে হবে গঠনতন্ত্র। কিন্তু অ্যাডহক কমিটি কি সেটা করার এখতিয়ার রাখে? প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ’র সময়েই বেশি ঝামেলা হয়েছে পদ নিয়ে। কাউন্সিলরশিপ নিয়ে আপত্তির মুখে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসলেও বেশিদিন টিকতে পারেননি। মোহামেডান, মেরিনারের মতো বড় দলগুলোকে ছাড়াই প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করতে হয়েছিল।

    এরপর ২০১৫ সালে হকির স্বার্থে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিদায় নিতে হয়েছিল হকি অন্তঃপ্রাণ খাজা রহমতউল্লাহকে। তবুও দূরত্ব কমেনি। যেমন করে ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে পরিচিত খন্দকার জামিলউদ্দিন আহমেদকে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক করে দেওয়া হয়েছিল। তাতে ক্লাব ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল আরো বেশি। তাকেও বিদায় নিতে হয় ঠিকমতো টার্ফে খেলা রাখতে না পারার কারণে। বর্ষীয়ান সংগঠক আবদুস  সাদেক এবার তৃতীয়বারের মতো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তাকেও কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বেতনভুক্ত সাধারণ সম্পাদকের দিকেই হাঁটছে ফেডারেশন। ছয় মাসের মধ্যে বেশকিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন তিনি। নির্ধারিত সময়ে সবগুলো লিগ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনই প্রধান লক্ষ্য।

    কিন্তু ফেডারেশনের কমিটিতে এবার উপেক্ষিত থেকেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) প্রতিনিধিত্ব। তাতেই নাখোশ হয়েছেন সাবেক খেলোয়াড়রা। হকির উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও জায়গা পাননি সর্বশেষ কমিটির সহ-সভাপতি শফিউল্লাহ আল মুনীরের। যেমন করে জায়গা হারিয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক আনভীর আদেল খান বাবু, নির্বাচক কমিটির প্রধান ও সদস্য কামরুল ইসলাম কিসমত, রফিকুল ইসলাম কামাল, মামুনুর রশীদ, হাজী হুমায়ুন ও আরিফুল হক প্রিন্স। সর্বশেষ এশিয়া কাপের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন মুনীর আর সদস্য সচিব মামুন। তাদের জায়গায় নতুন কমিটিতে সুযোগ পেয়েছেন মমিনুল হক সাঈদ, প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, সাজেদ এ আদেল, মাহবুবুল এহসান রানা ও মাহবুব হারুনসহ একাধিক কর্মকর্তা।

    এখন ভেতরে চাপা ক্ষোভ নিয়ে কিভাবে খেলাটির উন্নয়ন হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে দেশের হকি তার সঠিক রাস্তায় চলুক এই ভাবনা ও প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। আর নতুন কমিটিতে বদলাবে হকি সেই প্রত্যশাও করছেন তারা।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/এমএকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮