প্রথম দিনেই ১৫৮ রানের লিড নিয়েছে ও. ইন্ডিজ – BD Sports 24
  • প্রথম দিনেই ১৫৮ রানের লিড নিয়েছে ও. ইন্ডিজ

    July 5th, 2018

    ক্রীড়া ডেস্ক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    এন্টিগা, ৫ জুলাই: এন্টিগা টেস্টের প্রথম দিনেই ১৫৮ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৪ ওভারে মাত্র ৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিনশেষে ৬৮ ওভার মোকাবেলায় ২ উইকেটে ২০১ রান স্কোরবোর্ডে জমা করেছে। ফলে প্রথম দিন শেষে ১৫৮ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা। হাতে অক্ষত রয়েছে আরও ৮ উইকেট।

    অথচ এই উইকেটেই কীনা ক্যারিবীয় পেসারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তিন ক্যারিবীয় পেসার কেমার রোচ (৫ উইকেট), মিগুয়েল কামিন্স (৩ উইকেট) এবং জেসন হোল্ডার (২ উইকেট) ভাগ করে নেন বাংলাদেশের ১০ উইকেট।

    আর বাংলাদেশের বোলারদের পাত্তা না দিয়েই উদ্বোধনী জুটিতেই ক্রেগ ব্রেথওয়েট এবং ডেভন স্মিথ মোকাবেলা করেছেন ৪০.৪ ওভার। আর রান যোগ করেছেন ১১৩। স্মিথ ক্যারিয়ারের অষ্টম অর্ধশত করে ৫৮ রানে আউট হন। উইকেটটি নেন অভিষিক্ত পেসার আবু জায়েদ।

    দ্বিতীয় উইকেটে ব্রেথওয়েট ও কিরন পাওয়েল ৮১ রানের আরও একটি পার্টনারশিপ গড়েন। মাহামুদুল্লাহর বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ার আগে কিরন পাওয়েল নিজের নামের পাশে যোগ করেন ৪৮ রান। দিনশেষে ক্যারিয়ারের ১৮তম অর্ধশত রান পূর্ণ করার পর ওপেনার ক্রেগ ব্রেথওয়েট ৮৮ রানে এবং দেবেন্দ্র বিশু ১ রানে অপরাজিত থাকলে ৬৮ ওভার মোকাবেলায় ও. ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ২০১/২। ততক্ষণে লিড নেয়া হয়ে গেছে ১৫৮ রানের।

    এর আগে টস হেরে ১৮.৪ ওভারে ৪৩ রানে অলআউট হয় সফরকারী বাংলাদেশ। টেস্টে এক ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর এটি। এতদিন সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৬২/১০। সেটি ২০০৭ সালে কলম্বোয় শ্রীলংকার বিপক্ষে। আজ এন্টিগায় সেটিও ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ।

    টেস্টে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডটি হলো ২৬ রানে অলআউট। সেটি ১৯৫৫ সালে অকল্যান্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬ রানে অলআউট হয়েছিল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডানহাতি তিন পেসার কেমার রোচ, মিগুয়েল কামিন্স এবং জেসন হোল্ডার উইকেট ১০টি ভাগ করে নেন। এর মধ্যে কেমার রোচ ৫টি, মিগুয়েল কামিন্স তিনটি এবং জেসন হোল্ডার নেন ২ উইকেট।

    শুরুটা করেছিলেন কেমার রোচ। কেমার রোচ তার তৃতীয় ওভারের শেষ বলে ওপেনার তামিম ইকবালকে উইকেটরক্ষক ডরিচের ক্যাচে পরিণত করলে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় রান তখন ১০। তামিম মাত্র ৪ রান করে বিদায় নেন। এরপর ১৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কেমার রোচ তার চতুর্থ ওভারের শেষ বলে মুমিনুল হককে বিদায় করে দেন। ১ রান করা মুমিনুল হক গালি অঞ্চলে সাই হোপের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরেন।

    কেমার রোচ তার পঞ্চম ওভারে তিন-তিনজন ব্যাটসম্যানকে ০ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে মুশফিকুর রহীমকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন কেমার রোচ। রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। এই ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে অধিনায়ক সাকিব ও মাহামুদুল্লাহকে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন কেমার রোচ। সাকিব দ্বিতীয় স্লিপে জেসন হোল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে এবং মাহামুদুল্লাহ উইকেটের পেছনে শেন ডরিচের হাতে ক্যাচ দিয়ে কোনো রান না করেই ফেরত যান। দলীয় ১৮ রানে ৫ম উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।

    কেমার রোচের ষষ্ঠ বলটি অভিষিক্ত আবু জায়েদ শর্ট মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে ২ রান নিলে হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি কেমার রোচ।

    এরপর আরেক ডানহাতি পেসার মিগুয়েল কামিন্স তার দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে লিটন দাসকে ওভার মিড উইকেটে রোস্টন চেজ-এর তালুবন্দী করলে ৩৪ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। লিটন দাস ৫৩ বল মোকাবেলায় দুটি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ২৫ রান করে আউট হন। দলীয় রানের ৫৮ শতাংশ রান আসে লিটন দাসের ব্যাট থেকে।

    মিগুয়েল কামিন্সের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে নুরুল হাসানকে ‍তৃতীয় স্লিপে জেসন হোল্ডারের ক্যাচে পরিণত করলে ৩৪ রানেই সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে। ৪ রান করেন নুরুল হাসান।

    কামিন্স তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে মেহেদী হাসান মিরাজকে প্রথম স্লিপে ডেভন স্মিথের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলে অষ্টম উইকেট হারায় সফরকারীরা। ১ রানের বেশি এগুতে পারেননি মিরাজ। দলীয় রান তখন ৩৫।

    এরপর শুরু করেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ৩৫ রানে ০ রানে ফিরিয়ে দেন কামরুল ইসলাম রাব্বিকে। এরপরের ওভারের চতুর্থ বলে অভিষিক্ত আবু জায়েদকে (২ রান) সরাসরি বোল্ড করে দিলে মাত্র ৪৩ রানে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় বাংলাদেশ। রুবেল হোসেন ১০ বলে একটি চারের সাহায্যে ৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

    বাংলাদেশের ইনিংসে মোট বাউন্ডারি হয়েছে ৩টি। এর মধ্যে লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে দু’টি এবং একটি আসে রুবেল হোসেনের ব্যাট থেকে। ক্যারিবীয় ৩ পেসারের দাপটে বাংলাদেশের চারজন ব্যাটসম্যান রানের খাতা খুলতে পারেননি। এরা হলেন- মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ এবং কামরুল ইসলাম রাব্বি।

    কেমার রোচের বোলিং বিশ্লেষণ: ৫-১-৮-৫। মিগুয়েল কামিন্সের বোলিং বিশ্লেষণ: ৪-২-১১-৩। জেসন হোল্ডারের বোলিং বিশ্লেষণ ৪.৪-০-১০-২। অপর বোলার শেনন গ্যাব্রিয়েল ৫ ওভার বল করে ১৪ রান খরচায় কোনো উইকেট পাননি।

     

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    টস: ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪৩/১০ (১৮.৪ ওভার) (লিটন দাস ২৫, রুবেল হোসেন অপ. ৬; কেমার রোচ ৫/৮, মিগুয়েল কামিন্স ৩/১১, জেসন হোল্ডার ২/১০)।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস (১ম দিন শেষে): ২০১/২ (৬৮ ওভার) (ডেভন স্মিথ ৫৮, কিরন পাওয়েল ৪৮, ক্রেগ ব্রেথওয়েট অপ. ৮৮ ও দেবেন্দ্র বিশু অপ. ১; মাহামুদুল্লাহ ১/৬, আবু জায়েদ ১/৫৫)।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা