বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস আয়োজনে তোড়জোড় শুরু – BD Sports 24
  • বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস আয়োজনে তোড়জোড় শুরু

    March 2nd, 2020

    মোরসালিন আহমেদ

    বিশেষ প্রতিনিধি

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ২ মার্চ: বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ) ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস’ আয়োজনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহৎ এ উৎসবকে সামনে রেখে ক্রীড়াবিদরাও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোকে গেমস উপযোগী করে তুলতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তোড়জোড় শুরু করেছে। মাঠের খেলাগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো নানারকম পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে।

     

    সবকিছু মিলে ক্রীড়াঙ্গনে এখন সাজসাজ রব পড়তে শুরু করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে উৎসর্গকৃত এ গেমসের পর্দা উঠবে আগামী ১ এপ্রিল। যার যবনিকা ঘটবে ১০ এপ্রিল।

     

    দশদিনব্যাপী এ ক্রীড়া উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে উদ্বোধনী আর সমাপনী অনুষ্ঠানকে জমকালো আয়োজনে পরিণত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

     

    এদিকে বিওএ’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট ৩১টি ডিসিপ্লিন নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস অনুষ্ঠিত হবে। ডিসিপ্লিনগুলো হচ্ছে আরচ্যারী, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, শরীরগঠন, বক্সিং, দাবা, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফেন্সিং, ফুটবল, গলফ, জিমন্যাস্টিকস, হ্যান্ডবল, হকি, জুডো, কাবাডি, কারাতে, খো খো, রোইং, রাগবি, রোলার স্কেটিং, সাঁতার, শুটিং, টেবিল টেনিস, টেনিস, তায়কোয়ানডো, ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু।

     

    গেমসের জন্য ৩১টি ডিসিপ্লিন নির্ধারণ করা হলেও অথচ এনএসসি’র নিয়ন্ত্রণাধীনই রয়েছে প্রায় ৬০টির কাছাকাছি ক্রীড়া ফেডারেশন ও এসোসিয়েশন। অবশিষ্ট ওইসব ডিসিপ্লিনের প্রচার, প্রসার, জনপ্রিয়তা আর মানের কথা বিবেচনা করেই হয়ত গেমসের জন্য সেসব ক্রীড়া অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের মূল ভেন্যু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে ঘিরেই মূলত নানারকম জাঁকজমকতা থাকছে।

     

    বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেন, ২০২০ সালের ‘বাংলাদেশ গেমস’ এর নবম আসরটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে উৎসর্গ করা হচ্ছে। ফলে গেমসটির নামকরণ হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস’। তিনি জানান, এ গেমসকে সামনে রেখে প্রস্ততি অবহিত করতে আমি এবং বিওএ সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী আসন্ন এ গেমস সফলভাবে আয়োজনের বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনার পাশাপাশি গেমসটি সফলভাবে আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। সৈয়দ শাহেদ রেজা আরো জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

     

    বাংলাদেশ গেমস হচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঘরোয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। যেখানে দেশের সব জেলা, বিভাগ, সংস্থা, সার্ভিসেস দল অংশগ্রহণ করে থাকে। ১৯৭৮ সালে এ গেমসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। মাত্র ১০টি ডিসিপ্লিন নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া এ গেমসের প্রথম আসরের নাম ছিল ‘বাংলাদেশ অলিম্পিক গেমস’। এর পর ১৯৮০ সালে হয়েছিল দ্বিতীয় আসর। প্রথম দু’টি আসর ‘বাংলাদেশ অলিম্পিক গেমস’ নামকরণে হলেও তৃতীয় আসরটি থেকে ‘অলিম্পিক’ শব্দটি বাদ দিয়ে ১৯৮৪ সালে ‘বাংলাদেশ গেমস’ নামকরণ করা হয়। অলিম্পিক গেমসের আদলে প্রতি চার বছর পর পর এটি আয়োজনের কথা থাকলেও নিয়মের ক্যালেন্ডারে তা বেধে রাখা যায়নি। ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯২ ও ১৯৯৬ অর্থাৎ তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ আসরটি নিয়মিতভাবে হলেও পরের গেমসগুলো অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সপ্তম আসর ছয় বছর পর ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত হবার পর দীর্ঘ সময় গেমসটি আলোর মুখ দেখেনি। এর পর সুদীর্ঘ ১১ বছর ১মাস ১দিন পর ২০১৩ সালে অষ্টম আসর মাঠে গড়ায়। এবার সাত বছর পর ফের দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনের বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে।

     

    দীর্ঘ ৪২ বছরে যেখানে বাংলাদেশ গেমসের ১১টি আসর হবার কথা ছিল সেখানে এখন নবম আসর মাঠে গড়ানের অপেক্ষায়। ১০টি ডিসিপ্লিন দিয়ে এ গেমসের যাত্রা শুরু হলেও দিন দিন ডিসিপ্লিনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সময়ের চাহিদায় বর্তমানে ৩১টি ডিসিপ্লিনে এসে ঠেকেছে। অদূর ভবিষ্যৎতে গেমসে নতুন নতুন ডিসিপ্লিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে তা সহজেই অনুমেয়। ধারণা করা হচ্ছে অতীতের যে কোন আসরের চেয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে এবার রেকর্ডসংখ্যক দল ও ক্রীড়বিদ অংশগ্রহণ করবেন। নিয়মিত গেমস আয়োজন হলে যেমন স্কুল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে, তেমনি করে ক্রীড়া অবকাঠামোয় সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে নতুন নতুন ক্রীড়াবিদ বেরিয়ে আসবে। আর এমনি করেই এক সময় ক্রীড়াবিদ সংকটও কেটে যাবে। যার ফলে দেশ পাবে মানসম্পান্ন ক্রীড়াবিদ। যারা অদম্য জয়ের স্পৃহায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে দেশকে সাফল্যের শীর্ষ চূড়ায় নিয়ে যাবেন।

     

    ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস’ সর্ম্পকে বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেন, গেমসের জন্য অর্গানাইজিং কমিটি এবং বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সব কমিটিই তাদের অর্পিত দায়িত্ব নিয়ে পুরোদমে কাজ করছেন। তিনি জানন, গেমস উপলক্ষে থিম সং, মাসকাট, লোগো, মেডেলসহ সবকিছুর প্রস্তুতিই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

     

    তিনি জানান, গেমসের জন্য ৩৮ কোটি টাকার বাজেট করা হয়েছে। তবে সরকারের টাকার অপেক্ষা করবো না। বরাবরের মত নিজস্ব তহবিল দিয়ে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রস্তুতি চালিয়ে নেব। পরে সরকারি বরাদ্দ এলে তা সমন্বয় করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে বিওএ মহাসচিব জানান, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানকে জাঁকজমক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অতীতের যে কোন আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাবে এ আসর। তাই অপেক্ষার পালা যেন শেষ হতে চাইছে না!

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

    No posts here...

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

    No posts here...