মালদ্বীপ ফাইনালে – BD Sports 24
  • মালদ্বীপ ফাইনালে

    September 12th, 2018

    ক্রীড়া প্রতিবেদক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর: সাফ সুজুকি কাপ ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনালে ইব্রাহিম হাসান ওয়াহেদের জোড়া গোলে নেপালকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে মালদ্বীপ। গ্রুপ পর্বের দুই খেলায় কোনো গোল না করেই টসভাগ্যে সেমির টিকিট পায় মালদ্বীপ। সেই মালদ্বীপই কীনা নেপালকে সেমিতে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে জায়গা করে নিলো।

    এর ফলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ বার অংশগ্রহণ করে পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে পা রাখলো মালদ্বীপ। ১৯৯৭, ২০০৩, ২০০৮ এবং ২০০৯’র আসরে ফাইনালে খেলেছিল মালদ্বীপ। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করেছিল মালদ্বীপ।

    গোলের জন্য অবশ্য অপেক্ষা বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মালদ্বীপকে। ৯ মিনিটে প্রথমে গোল করে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। এ সময় ডান প্রান্তে ডি বক্সের বাইরের কোনায় ফ্রি কিক পায় মালদ্বীপ। অধিনায়ক আকরাম আবদুল ঘানির নেয়া বাম পায়ের বাঁকানো শট থেকে মালদ্বীপের মোহাম্মেদ সামদুহ পা লাগাতে ব্যর্থ হলেও গোল পেতে অসুবিধা হয়নি মালদ্বীপের। আকরাম আবদুল ঘানির নেয়া ফ্রি-কিক নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বুকে বোকা বানিয়ে জাল স্পর্শ করে (১-০)।

    এর পরপরই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণেই দুই দলই স্বাভাবিক খেলা প্রদর্শনে অসুবিধার সম্মুখীন হয়।

    ১৬ মিনিটে নেপালের একটি গোলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ডান প্রান্ত থেকে নেপালের অধিনায়ক ভারত খাওয়াজের নেয়া শট সরাসরি মালদ্বীপের গোলরক্ষক মোহাম্মদ ফয়সালের হাতে জমা পড়লে গোল পরিশোধ করা হয়নি নেপালের।

    ১৯ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যায় নেপাল। ডি বক্সের কিছুটা বাইরে ফ্রি-কিক পায় নেপাল। নেপালের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় সুমন আরইয়ালের নেয়া ফ্রি কিক অল্পের জন্য দ্বিতীয় বারের উপর দিয়ে বাইরে গেলে গোলের দেখা পায়নি নেপাল।

    ২২ মিনিটে আবারও আক্রমণে যায় নেপাল। এবার বাম প্রান্তে ডি বক্সের বাইরে আবারও ফ্রি-কিক পায় নেপাল। স্ট্রাইকার সুনীল বাল-এর নেয়া ডান পায়ের বাঁকানো ফ্রি-কিক মালদ্বীপ গোলরক্ষক মোহাম্মেদ ফয়সাল ফিস্ট করে রুখে দেন। ফিরতি বলে নেপালের অধিনায়ক ভারত খাওয়াজের নেয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে যায়।

    ২৪ মিনিটে আবারও গোল করে এগিয়ে যেতে পারতো মালদ্বীপ। ডান প্রান্তে ডি-বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় নেপাল। অধিনায়ক আকরাম আবদুল ঘানির নেয়া বাম পায়ের ফ্রি কিক প্রথম পোস্ট দিয়ে গোলে ঢোকার মুহূর্তে নেপাল গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বু বাম দিকে ঝাঁপিয়ে নিশ্চিত গোল হজম থেকে দলকে রক্ষা করেন।

    ২৫ মিনিট খেলা হওয়ার পর বৃষ্টিসহ বজ্রপাতের কারণে রেফারি খেলা বন্ধ করে দেন। বৃষ্টির কারণে ৩৫ মিনিটে খেলা বন্ধ থাকার পর বিকেল ৫.০০টায় আবারও খেলা শুরু হয়। দুই দলই আক্রমণ-পাল্টাআক্রমণ করে খেলতে থাকে।

    ৩৫ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে সুনীল বাল-এর ডান পায়ের ক্রস মালদ্বীপের গোলররক্ষক মোহাম্মেদ ফয়সাল ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

    ৩৯ মিনিটে নেপালের আরও একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন মালদ্বীপ গোলরক্ষক। এ সময় নেপালের বিমল ঘার্তি মাগারের নেয়া শট মালদ্বীপ গোলরক্ষক ফিস্ট করে প্রতিহত করেন। ফিরতি বলে ভারত খাওয়াজের নেয়া শট সাইড বাইর ঘেঁষে বাইরে গেলে গোল পরিশোধ করা হয়নি নেপালের।

    বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে প্রথমার্ধের বাকি ২০ মিনিটে নেপাল একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেও গোল পরিশোধ করতে পারেনি। মালদ্বীপের গোলরক্ষক মোহাম্মেদ ফয়সাল নেপালের বেশ কয়েকটি আক্রমণ দক্ষতার সাথে রুখে দিলে প্রথমার্ধে ১-০তে এগিয়ে থাকে মালদ্বীপ।

    ৪৮ মিনিটে আবারও একটি গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে মালদ্বীপ। এ সময় ডান প্রান্ত থেকে ক্ষিপ্রতার সাথে মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড হাসান নাইজ ডি বক্সে ঢুকে ডান পায়ে শট নেন। কিন্তু নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বু শুয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

    ৫১ মিনিটে মালদ্বীপের আরও একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেন দেন নেপালি গোলরক্ষক। এ সময় ডান প্রান্ত থেকে ফ্রি-কিকের বল লাফিয়ে ফিস্ট করে প্রতিহত করেন নেপালি গোলরক্ষক।

    ৬৮ মিনিটে ডি বক্সের সামান্য বাইরে থেকে নেপালের স্ট্রাইকাল সুনীল বাল-এর নেয়া ডান পায়ের পাওয়ালফুল শট ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে বাইরে গেলে গোল পরিশোধের সুযোগ নষ্ট হয় নেপালের।

    ৭৫ মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় নেপাল। এ সময় বাম প্রান্ত থেকে গোলমুখে নেয়া সুনীল বাল-এর থ্রু পাসে ফাঁকা পোস্টে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। নেপালের বদলি ফরোয়ার্ড নবযুগ স্রেষ্ঠা।

    ৮৪ মিনিটে আবারও গোল করে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। এ সময় ডান প্রান্ত থেকে বদলি খেলোয়াড় আসাদুল্লাহ আবদুল্লাহর গোলমুখে নেয়া শট নেপালের সুজাল স্রেষ্ঠা ফিরিয়ে দিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি। ফিরতি বলে মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম হাসান ওয়াহেদ নেপালের জালে বল পাঠান (২-০)।

    ২ মিনিট পরেই আবারও নেপালের জালে বল পাঠান ইব্রাহিম হাসান ওয়াহেদ। অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে জটলার মধ্য থেকে মালদ্বীপের কুশলী ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম হাসান ওয়াহেদ ডান পায়ের শটে নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বুকে পরাস্ত করেন (৩-০)।

    শেষ দিকে নেপাল গোল পরিশোধের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু মালদ্বীপের গোলরক্ষক মোহাম্মেদ ফয়সাল অসামান্য দক্ষতায় তা রুখে দিলে ৩-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে পিটার হারবাটসকোর শিষ্যরা।

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল বিজয়ী দলের  সাথে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ফাইনালে লড়বে মালদ্বীপ।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/এমএকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা