মেয়েদের হাতেই আলোর নিশান – BD Sports 24
  • মেয়েদের হাতেই আলোর নিশান

    December 24th, 2017

    মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর: এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে চলতে থাকা মেয়েদের ফুটবলে উল্লাসের নতুন উপলক্ষ এসেছে সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপ। ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে পরাজিত করে দেশের মাটিতে আরো একটি সাফল্য পায় কিশোরী ফুটবলাররা। গ্রুপ পর্বের পর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতকে পরাজিত করে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। কিশোর ফুটবলাররা না পারলেও কিশোরীরা ঠিকই দক্ষিন এশিয়ার সেরার মুকুট পড়েছে। অপরাজিত থেকেই শিরোপা জয় করে নিজেদের উন্নতির রেখাটা আরো একবার প্রমাণ করল বাংলাদেশ।

    এর আগে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে নেপাল, ভুটান ও ভারতকে পরাজিত করে ফাইনালে পা রাখে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এই তিন ম্যাচ থেকে ১২ গোল করলেও নিজেদের জাল দুর্ভেদ্য প্রমাণ করেছে মারিয়া মান্ডার দলটি। ফাইনালেও বাংলাদেশের জালে প্রতিপক্ষরা বল জড়াতে পারেনি।

    এবারের আসরে ভারতকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়েছিল। গ্রুপ পর্বেই নিজেদের ফেবারিট হিসেবে প্রমাণ করে পনের না পেরুনো ফুটবলাররা। ২০১৫ সালে ছেলেদের সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। দু’বছর পর এবারের আসরে আর শিরোপা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফাইনালে উঠলেও রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ বাবুর শিষ্যদের। ছেলেদের মতো হতাশ হতে হয়নি মেয়েদেরকে নিয়ে।

    এবারের আসর শুরুর একেবারে কয়েকদিন আগে এসে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় শ্রীলংকা। তার আগে গ্রুপ পর্বের লড়াইটা হওয়ার কথা ছিল দুই ভাগে। কিন্তু পরে তা একটি গ্রুপে সবার সাথে সবার মোকাবেলা করতে হয়। কয়েক মাসের প্রস্তুতি যে কাজে দিয়েছে তা মাঠের ফুটবলেই প্রমাণ দিয়েছে খেলোয়াড়রা। দাপটের সাথে কোন ম্যাচ না হেরে এমনকি কোন গোল হজম না করেই শিরোপা উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ। মাঠে উপস্থিত কয়েক হাজার দর্শককে নিরাশ হতে হয়নি।

    এই আসর শুরু হওয়ার আগে দারুণ এ সুখবর পায় বাংলাদেশ। র‌্যাংকিংয়ে সেরা ১০০ তে স্থান করে নেয় মেয়েদের ফুটবল। এটা উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে কৃষ্ণা রানী সরকারের নেতৃত্বে অনুর্ধ্ব-১৫ এএফসি বাছাই প্রতিযোগিতায় অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। গত বছরের সেই সাফল্য দেশের মাটিতে বড় অর্জন হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এখন ছেলেদের ফুটবলে একরাশ হতাশার মাঝে আলোর নিশান হাতে ধরা দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল। সর্বশেষ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৯৭তম অবস্থানে রয়েছে ছেলেদের দল। গত বছরের ১০ অক্টোবর ভুটানের কাছে হেরে তিন বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসনে চলে যায় বাংলাদেশ দল।

    মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন, জুয়েল রানা, হেমন্ত বিশ্বাসরা এরপর এখন পর্যন্ত আর মাঠে নামতে পারেননি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চেপে। এখন বয়সভিত্তিক দলের জাতীয় দল থাকলেও মূল জাতীয় দল বলতে বাংলাদেশে কিছুই নেই। সে কারণে কোনো খেলাও নেই সামনে। না খেলেই র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আর পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। ঘরোয়া আসরগুলোও চলছে ঢিমেতালে। প্রত্যাশার পারদের সবগুলোই জ্বালিয়ে রেখেছেন মেয়েরা। প্রতিনিয়ত সাফল্য পেতে থাকা মেয়েরাই দেশের পতাকাকে সমুজ্জ্বল করছে। অপেক্ষা ছেলেরা কবে তা করে দেখাতে পারবে। যদিও বয়সভিত্তিক দলের ছেলেরা এখন আশা জাগাচ্ছে।

    যদিও পুরুষ জাতীয় দল কি করতে পারে তা জানা গেছে আগেই। দক্ষিণ এশিয়ান বিশ্বকাপ খ্যাত সাফে’র সর্বশেষ তিনটি আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এটা যেন নিয়মিত দৃশ্য হয়ে গেছে। সেখান থেকে চেষ্টা করেও উন্নতির কোনো সুযোগ মিলছে না। আসলে খেলোয়াড়রা যে পারছেনা এটাই বড় কথা। মেয়েরা হতাশার বিপরীতে দিনে দিনে উন্নতির ধারাটা ধরে রাখতে পারছে। হয়তো পারবে ভবিষ্যতে। অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো সাফল্য যোগ হয়েছে বাংলাদেশের ভাণ্ডারে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ বালিকা বিভাগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে তৃতীয় হয়ে ফেয়ার প্লে ট্রফি জিতলেও ২০১৬ সালে আবারো এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ আসরে আঞ্চলিক বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল লাল-সবুজ মেয়েরা। একই বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া ২০১০ ও ২০১৬ এসএ গেমস ফুটবলে দু’বার ব্রোঞ্চ জিতেছে ছোটনের শিষ্যরা। সে হিসেবে কম সাফল্য আসেনি মেয়েদের। আর সবখানেই যে গোলাম রব্বানী ছোটনের ছোয়া রয়েছে।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/এমএকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮