শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৩ রানের নাটকীয় জয় টাইগারদের – BD Sports 24
  • শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৩ রানের নাটকীয় জয় টাইগারদের

    September 24th, 2018

    ক্রীড়া ডেস্ক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    আবু ধাবি, ২৩ সেপ্টেম্বর: এশিয়া কাপে সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৩ রানের নাটকীয় জয় পেয়েছে টাইগাররা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানদের ৮ রানের প্রয়োজন ছিল। টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের কুশলী বোলিংয়ে ৪ রানের বেশি নিতে পারেনি আফগান ব্যাটসম্যানরা। ফলে ৩ রানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। সেইসাথে ফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখলো মাশরাফি বাহিনী।

    আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ম্যাচটি অঘোষিত সেমিফাইনালে রূপ নিয়েছে। কারণ ভারত সুপার ফোরে প্রথম ২ খেলায় জয় পাওয়ায় ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। অপরদিকে আফগানিস্তান ২ খেলায় হেরে যাওয়ায় ফাইনালে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে গেছে তাদের। তাই ২৬ সেপ্টেম্বরের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যে দল জয় পাবে তারাই ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

    শেষ ওভারে ৮ রান করলেই আফগানদের জয় নিশ্চিত। এমন অবস্থায় টাইগার দলপতি বল হাতে তুলে দেন সেরা পেস ব্যাটারি মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে। ক্রিজে ছিলেন তখন রশিদ খান ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। স্ট্রাইকে রশিদ খান। মোস্তাফিজের করা প্রথম বলটি এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে পাঠিয়ে ২ রান নেন রশিদ খান।

    কিন্তু পরের বলে এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে রশিদ খানকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ক্যাচটি নেন মোস্তাফিজ নিজেই। সেইসাথে সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে আফগানদের।

    ৪ বলে দরকার ৬ রান। মোস্তাফিজুর রহমানের তৃতীয় বলে সামিউল্লাহ শেনওয়ারি লেগ বাই থেকে নেন ১ রান। চতুর্থ বলে গুলবদিন নায়েব কোনো রান নিতে না পারায় শেষ ২ বলে জয়ের জন্য আফগানদের প্রয়োজন পড়ে ৫ রান। পঞ্চম বলে লেগ বাই থেকে এক রান নেয় আফগানিস্তান।

    তাই শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার পড়ে ৪ রান। মোস্তাফিজের করা শেষ বলটি ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। বল জমা পড়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের হাতে। সেইসাথে ৩ রানের নাটকীয় জয় পায় মাশরাফি বাহিনী।

    বাংলাদেশের করা ২৪৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নামা আফগান ইনিংসে প্রথম আঘাতটি হেনেছিলেন পেসার মোস্তাফিজ। ৮ রান করা ইহসানুল্লাহকে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন মোস্তাফিজ। দলীয় রান তখন ২০। এরপর দলীয় ২৬ রানে রহমত শাহকে রান আউট করে দেন সাকিব আল হাসান।

    তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ শাহজাদ এবং হাসমতুল্লাহ শাহিদি ৬৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ৫৩ রান করা মোহাম্মদ শাহজাদকে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ সরাসরি বোল্ড করে দিলে তৃতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। মোহাম্মদ শাহজাদ ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশত রানের দেখা পান এদিন।

    চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক আসগর আফগান এবং হাসমতুল্লাহ শাহিদী ৭৮ রানের আরও একটি বড় পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। আসগর আফগান আউট হন ৩৯ রান করে। মাশরাফির বলে মাহামুদুল্লার হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

    ১৯২ রানে হাসমতুল্লাহ শাহিদীকে সরাসরি বোল্ড করে দেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। সেইসাথে ৫ম উইকেটের পতন ঘটে আফগানদের। হাসমতুল্লাহ করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ রান। এদিন ৫ম ওয়ানডে অর্ধশত রানের দেখা পান তিনি।

    ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ নবী ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ৪৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। জয় থেকে যখন ১২ রান দূরে তখন সাজঘরে ফিরেন মোহাম্মদ নবী। নবীর উইকেটটি নেন সাকিব আল হাসান।

    বাংলাদেশের দুই পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফি দুটি করে এবং সাকিব ও মাহামুদুল্লাহ একটি করে উইকেট নেন।

    এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ এবং ইমরুল কায়েসের ফিফটির ওপর ভর করে ৭ উইকেটে ২৪৯ রান করে বাংলাদেশ।

    উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১৬ রান আসে বাংলাদেশের। ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ৬ রান করে বিদায় নেন। এরপর ২ রান যোগ করতেই অপর ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন ১ রান করে সাজঘরে ফিরলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

    তৃতীয় উইকেটে ওপেনার লিটন দাস এবং মুশফিকুর রহীম ৬৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। দলীয় ৮১ রানে ৪১ রান করে আউট হন ওপেনার লিটন দাস। এরপর সাকিব আল হাসান কোনো রান না করেই দুর্ভাগ্যজনক রান আউট হয়ে বিদায় নিলে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৮৭ রানে মুশফিকুর রহীমও রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন। ৩৩ রানের বেশি এগুতে পারেননি মুশফিকুর রহীম।

    দলের এ অবস্থায় হাল ধরেন মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ এবং ইমরুল কায়েস। এই দুই ব্যাটসম্যান ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১২৮ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়েন। মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটির দেখা পান আজ। ৮১ বলে তিন বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৭৪ রান করে আউট হন মাহামুদুল্লাহ। দলীয় রান তখন ২১৫।

    ২৩৬ রানে অধিনায়ক মাশরাফি ৯ বলে ১০ রান করে আউট হন।  অষ্টম উইকেটে ইমরুল কায়েস ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৭ বল মোকাবেলায় ১৩ রান যোগ করলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২৪৯/৭। ইমরুল কায়েস ক্যারিয়ারের ১৫তম ফিফটির সাহায্যে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ৮৯ বলের ইনিংসে ৬টি বাউন্ডারির মার রয়েছে। মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।

    আফগান বোলার আফতাব আলম একাই নেন ৩ উইকেট। এছাড়া মুজিব উর রহমান ও রশিদ খান একটি করে উইকেট নেন।

    ম্যাচসেরা হন মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ।

    আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। অপরদিকে ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে ভারতের।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

    No posts here...

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

    No posts here...