সাঁতারে নাও আসতে পারে কাঙ্ক্ষিত পদক – BD Sports 24
  • সাঁতারে নাও আসতে পারে কাঙ্ক্ষিত পদক

    September 18th, 2019

    বিশেষ সংবাদদাতা
    বিডিস্পোর্টস২৪.কম
    ঢাকা : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
    দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসব এসএ গেমসে সাঁতার দলের স্বর্ণ জয় কঠিন হয়ে যেতে পারে। হয়তো বা নেপালের কাঠমান্ডুতে নাও আসতে পারে কাঙ্ক্ষিত পদক! নানারকম সমীকরণেই এমন সংশয় আর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রথমত এ গেমস যখন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে তখন হিমালয়কন্যার দেশে প্রচণ্ড শীত থাকবে। সেক্ষেত্রে সাঁতারুরা কতটা স্বাচ্ছন্দবোধ করবেন এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

     

    দ্বিতীয়ত যেখানে সুইমিং কম্পিটিশন হবে সেই পুলে হিটারের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে তীব্র ঠাণ্ডা পানিতে সাঁতারুরা কতটা কী করতে পারবেন এমন শঙ্কা থেকেই যায়। তৃতীয়ত ২৫ মিটার দৈর্ঘের সুইমিংপুলে হবে সাঁতারের বিভিন্ন ইভেন্টসমূহ। অথচ দেশের সাঁতারুরা ৫০ মিটার পুলে অনুশীলন, প্রশিক্ষণ আর কম্পিটিশন করে অভ্যস্ত। কাজেই এমন প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলাদেশ কতটা সাফল্য দেখতে পারে তা কেবল সময়ই বলে দেবে!

     

    শুধু কী তাই ? নেপালে যে দু’বার অর্থাৎ ১৯৮৪ ও ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ এশীয় গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই দু’টি আসরেও সাঁতার থেকে কোনো স্বর্ণ আসেনি। এসব কারণেই সবার মধ্যে ভয়, সংশয় আর শঙ্কাটা বড় করে দেখা দিয়েছে।

     

    এদিকে গেমস গড়ানোর আগেই নেপালের সুইমিংপুল নিয়ে আপত্তি তুলেছে পাকিস্তান অলিম্পিক কমিটি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত সমাধান চেয়েও দেশটি সার্কভুক্ত দেশগুলোর অলিম্পিক কমিটির নজরে এনেছে, এমন কী এর করণীয় সম্পর্কে পরামর্শও চেয়েছে।

     

    এদিকে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ বলেন, দক্ষিণ এশীয় গেমসকে সামনে রেখে আমরা জানুয়ারি থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। তবে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) মাধ্যমে জুলাই থেকে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। তিনি জানান এতোদিন দেশের শীর্ষ তিন প্রশিক্ষকদের নিয়েই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল। সেপ্টেম্বর থেকে জাপানী কোচ আবাসিক ক্যাম্পে যোগ দেওয়ায় সবার মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জম্মেছে।

     

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমাদের ইচ্ছে ছিল গেমস শুরুর অন্তত একমাস আগে নেপালে গিয়ে অনুশীলন করার। এ ব্যাপারে আমরা তাদের সাথে যোগাযোগও করেছিলাম। কিন্ত নেপালে সুইমিংপুলের অপ্রতুলতা থাকায় দেশটি অপরাগতা প্রকাশ করে। এর পর মালয়েশিয়ায়ও সাঁতার দল পাঠানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্ত সেখান থেকেও সাড়া পাইনি। ফলে গেমসের আগে অনুশীলন প্রশিক্ষণের জন্য দল দেশের বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা থেকে ফিরে এসেছি।

     

    তিনি আরও জানান, ওয়ার্ল্ড সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপে সাঁতারুদের টাইমিং পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত না হলেও নেপাল থেকে বেশ কিছু ইভেন্ট থেকে স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কোন কোন ইভেন্ট থেকে আসতে পারে তা টেকনিক্যাল কারণে বলতে চাননি।

    অপরদিকে কোচ মো. আবদুল হামিদ বলেন, মিরপুর সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে সকাল-বিকেল দু’ বেলা দলের প্রশিক্ষণ চলছে। আবাসিক ক্যাম্পে ১৮ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারীসহ মোট ৩২ জন সাঁতারু রয়েছেন। এর মধ্যে এসএ গেমসে কখনোই অংশ নেননি এমন নতুন মুখ রয়েছেন ১৩ জন পুরুষ ও ৮ জন নারীসহ মোট ২১ জন। অর্থাৎ ৩২ জনের মধ্যে ক্যাম্পে নতুন মুখই রয়েছেন ২১ জন। অন্যদিকে অভিজ্ঞ সাঁতারু রয়েছে ১১ জন।

     

    এ প্রসঙ্গে কোচ মো. আবদুল হামিদ জানান, নতুনরা টাইমিং পারফরম্যান্স দেখিয়েই ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছেন। এদের অনেকেই এসএ গেমসে স্বর্ণ রৌপ্য জয়ের যোগ্যতা রাখেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান অভিজ্ঞ আর নতুনদের নিয়েই স্বপ্ন দেখছে দেশের ঐতিহ্যবাহী এ ডিসিপ্লিনটি। তিনি অকপটেই স্বীকার করলেন, নেপালে কাঙ্ক্ষিত পদক জয় কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কিন্ত একটি জায়গায় গিয়ে সমস্যা হতে পারে। আর সেখানেই ভয় পাচ্ছেন এ অভিজ্ঞ কোচ। বর্তমানে সাঁতারুরা দেশে ৫০ মিটার দৈর্ঘের সুইমিংপুলে অনুশীলন করছেন। কিন্ত নেপালে গিয়ে কম্পিটিশন করতে হবে ২৫ মিটারের পুলে। এ কারণেই সাঁতার দল একটু আগেভাগে নেপালে যেতে চেয়েছিল অনুশীলনের জন্য। কিন্ত সেখান থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবুও সাঁতারুরা ২৫ মিটার পুলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মন-মানসিকতা নিয়েই ৫০ মিটার পুলে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

     

    উল্লেখ্য, সবশেষ ২০১৬ সালে এসএ গেমস থেকে মাহফুজা খাতুন শিলা দু’টি স্বর্ণ পদক পেয়েছিলেন। এ পর্যন্ত ১২টি আসর থেকে সাঁতার দল ১৭টি স্বর্ণ, ৫৩টি রৌপ্য ও ৮৬টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে।

     

    এসএ গেমসের আবাসিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া সাঁতারুরা হলেন
    পুরুষ সাঁতারু
    ১. মো. মাহফিজুর রহমান সাগর-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ২.মো. মাহমুদুন নবী নাহিদ-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ৩.মো. আসিফ রেজা-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ৪.মো. জুয়েল আহমেদ-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
    ৫.ফয়সাল আহমেদ-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
    ৬.সুকুমার দাস-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
    ৭.মামুনুর রশিদ-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ৮.নূর আলম-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ৯.হিমেল মিয়া-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ১০.মো. জামরুল মিয়া-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
    ১১.মো. কাজল মিয়া-কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা
    ১২.মো. ইসলাম-কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা
    ১৩.মো. হাকিম রানা-বাংলাদেশ নৌবাহিনী (চুক্তিভিত্তিক)
    ১৪.ইমরান হোসেন রনি-বিকেএসপি
    ১৫.আমিনুল ইসলাম জয়-বিকেএসপি
    ১৬.ওমর আলী-বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থা
    ১৭.সামিউল ইসলাম রাফি-রাজবাড়ী জেলা ক্রীড়া সংস্থা
    ১৮.মো. রবিউল আউয়াল-পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা

    নারী সাঁতারু
    ১.মাহফুজা খাতুন শিলা-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ২.সোনিয়া আক্তার টুম্পা-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ৩.সোনিয়া খাতুন-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ৪.সুরাইয়া আক্তার-বাংলাদেশ নৌবাহিনী
    ৫.নাঈমা আক্তার সোনালী-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
    ৬.রুমানা আক্তার-বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
    ৭.সুম্মা খাতুন-বিকেএসপি
    ৮.খাদিজা আক্তার-বিকেএসপি
    ৯.আন্না আক্তার-মাদারীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা
    ১০.মুক্তি খাতুন-বাংলাদেশ আনসার
    ১১.শরিফা আক্তার মীম-বাংলাদেশ আনসার
    ১২.মুক্তা খাতুন-কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা
    ১৩.বৈশাখী খাতুন-ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থা
    ১৪.ফাতেমা আক্তার কেয়া-যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা

    প্রশিক্ষক টিম
    ক্যাম্প কমান্ডার : লে. কমান্ডার এসএম মাহাদী-উল-হাসান
    চিফ কোচ : টোকিও ইনকি
    কোচ : মো. আবদুল হামিদ, মো. গোলাম মোস্তফা এবং মো. মাহবুবুর রহমান

     

    বিডিস্পোর্টস২৪.কম/এমএ


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা