২০০৩ সাফ স্বর্ণজয়ী ফুটবলারদের সম্মাননা দিল বিএসপিএ – BD Sports 24
  • ২০০৩ সাফ স্বর্ণজয়ী ফুটবলারদের সম্মাননা দিল বিএসপিএ

    August 31st, 2018

    ক্রীড়া প্রতিবেদক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ৩১ আগস্ট: ২০০৩ সালে নিজেদের মাটিতে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সেই চ্যাম্পিয়ন দলটিকে আজ বিকেলে রাজধানীর হোটেল ফারস-এ সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ)।

    বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান উজ জামান রাজিবের নান্দনিক উপস্থাপনায় শুরুতেই মঞ্চে আসেন সমিতির সভাপতি মোস্তফা মামুন এবং বাফুফে সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। এই দুইজন ২০০৩ সালে সাফ স্বর্ণজয়ী ফুটবল দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।

    শুরুতেই আসেন স্বর্ণজয়ী দলের অধিনায়ক রজনী কান্ত বর্মন। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন গোলরক্ষক মো. আমিনুল হক, গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য, আরমান মিয়া, মাহমুদুল হাসান, সাইফুল ইসলাম সাইফ, সাইফুর রহমান মনি, রোকনুজ্জামান কাঞ্চন, মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ, আলফাজ আহমেদ, ফিরোজ মাহমুদ টিটু, কাজী নজরুল ইসলাম, আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু, মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, আরিফ খান জয়, টিম লিডার শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, গোলরক্ষক কোচ মোশাররফ বাদল, ম্যানেজার ছাইদ হাছান কানন এবং অফিস বয় মো. মহসীন।

    ব্যস্ততার কারণে এবং দেশের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি হাসান আল মামুন, মো. সুজন, মতিউর রহমান মুন্না, মনোয়ার হোসেন, আরিফুল কবির ফরহাদ, আমিরুল ইসলাম বাবু এবং ডা. মাহফুজুল্লাহ চিশতী।

    পাশে একটি ফুটবল রাখা হয়। সেই ফুটবলে ২০০৩ সালের স্বর্ণজয়ী সকল সদস্য সাক্ষর দেন। পরে অনুপ্রেরণা হিসেবে সাক্ষরকৃত বলটি বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেয়া হয়।

    এরপর ২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রাথমিক দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

    এরপর ২০০৩ সালে সাফে স্বর্ণজয়ী ফুটবলারদের মুখ থেকে কিছু শোনার পালা। শুরুতেই বক্তব্য রাখেন অধিনায়ক রজনী কান্ত বর্মন। তিনি নতুন খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ১৫ বছর পর যাতে সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণ জিততে পার, এটাই তোমাদের কাছে আমার চাওয়া।

    স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য আরমান মিয়া বলেন, ১৫ বছর পর স্মৃতিচারণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিএসপিএকে ধন্যবাদ।  তিনি বলেন, ২০০৩ সালে মাঠে এমন লোক ছিল না যে, আমরা তাদের সহযোগিতা পাইনি। গায়ক, নাট্যকার, মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে সাংবাদিক ভাইদের কাছ থেকেও সাপোর্ট পেয়েছি। ফাইনালের আগের দিন রাতে আমরা ঘুমাতে পারিনি। রাত ২টা বাজে আমার রুমের দরজা খোলা। আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। উঠে দেখি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে স্ট্রাইকার আলফাজ। জিজ্ঞাসা করলাম এত রাতে। আলফাজ জানালেন ফজরের নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। তখন দেখি রাত মাত্র ২টা বাজে।

    বর্তমান দলের ফুটবলারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের মাটিতে খেলা, নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই। সাহস করে খেলো, তোমরা চ্যাম্পিয়ন হবেই।

    সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০০৩ সালের সাফ ফুটবলটা ছিলো আমার জন্য অন্যরকম। আমি ১ বছর ইনজুরিতে ছিলাম। সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর ৪ মার আগে একটি অপারেশন হয়েছিল আমার। ডাক্তার বলেছিলেন, আগামি ৬ মাস খেলা বন্ধ। কিন্তু আমার পিতৃতুল্য জাতীয় দলের কোচ জর্জ কোটান আমাকে প্রতিদিন তিন বেলা একটু-একটু করে অনুশীলন করিয়েছেন। এতে করে ২ মাসের মাথায় আমি প্র্যাকটিসে যোগ দেই। আর ৪ মাস পরে তো সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেই। দলের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছে।

    এরই মধ্যে একটি ঘটনা ঘটলো ফাইনালের আগের দিন। কোচ জর্জ কোটান আমাদের প্রতিদিন লং টেনিস খেলাতেন। এই লং টেনিস খেলার সময় আমি পড়ে গিয়ে ডানদিকের হাড়ে চোট লাগে। ব্যথার কারণে আমি ডান দিকে ড্রাইভ দিতে পারতাম না। সেটা দলের ডাক্তার মাহফুজুল্লাহ চিশতীকে জানালাম। উনি বললেন, চিন্তার কোনো কারণ নেই। খেলা শুরু হওয়ার ১০ মিনিট আগে আমি একটা ইনজেকশন দিয়ে দিবো। এতে তোমার ব্যথা কমে যাবে। খেলা শুরু হওয়ার ১০ মিনিট আগে উনি আমাকে ইনজেকশন দিয়ে দিলেন। এরপর ফাইনালে পুরো সময় খেলতে আমার আর কোনো অসুবিধা হয়নি।

    নতুন ফুটবলারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০০৩ সালের মতো এবারও যাতে নিজেদের মাঠে সাফে স্বর্ণ জয় করতে পার তোমাদের কাছে আমার সেটাই চাওয়া।

    উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেন, আমি কখনও ভালো খেলোয়াড় ছিলাম না। কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি এ জায়গায় দাঁড়িয়ে। আজকের এই ক্ষণটি আমার জন্য স্মরণীয়। ফুটবলের জন্যই আমি আজ মন্ত্রী। আর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। একটি টুর্নামেন্ট আমাকে বদলে দিয়েছে। বর্তমান দলটি বেশ সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন আরিফ খান জয়। দেশকে জেতানোর জন্য খেলতে হবে। তাহলেই তোমরা সফলতা পাবে।

    সাবেক ফুটবলার ও কোচ আবু ইউসুফ নতুন ফুটবলারদের কোচের কথামত খেলার পরামর্শ দেন। এতে করেই তোমরা সফলতা পাবে।

    প্রবীণ সাংবাদিক দিলু খন্দকার বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই দলটি অনেক ভালো। নিজেদের সামর্থ্যানুযায়ী খেলতে পারলে সাফে স্বর্ণ জয় অসম্ভব নয়।

    এরপর বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে মামুনুল ইসলাম, জামাল ভুইয়া, কোচ জেমি ডে এবং আব্দুস সালাম মুর্শেদী বক্তব্য রাখেন।

    সবশেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি মোস্তফা মামুন।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/এমএকে


অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন


প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  


ক্রীড়া সাহিত্য

ব্যাডমিন্টন

আরচ্যারি

গল্‌ফ

ভারোত্তোলন

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা